খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬-এর প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নির্বাচন সংক্রান্ত ত্রৈমুখী দায়িত্ব ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছেন। প্রথমত, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অসামরিক প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে যেকোনো প্রয়োজনে সমর্থন প্রদান। দ্বিতীয়ত, সাধারণ জনগণের মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়তা। এবং তৃতীয়ত, সকল স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে এক শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
গতকাল সকাল ১০টায় গুলিস্তানের জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সেনাপ্রধান এসব কথা জানান। সভায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীসহ নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ উপস্থিত ছিলেন।
সেনাপ্রধান স্টেডিয়ামের সেনাক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং জানান, দুর্গম ও বিপদসংকুল এলাকায় ভোটকেন্দ্রে ব্যক্তি ও সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য সামরিক হেলিকপ্টার ও জলযান প্রস্তুত থাকবে। প্রয়োজন হলে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য হেলিকপ্টারসমূহ সারাদেশে মোতায়েন থাকবে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, এক লাখ সেনা সদস্য নির্বাচনের জন্য মাঠে থাকবে, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় প্রায় আড়াইগুণ। নৌবাহিনীর ৫,০০০ এবং বিমানবাহিনীর ৩,৭৩০ সদস্যও সহায়তায় রয়েছেন।
নিম্নলিখিত টেবিলে নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেখানো হলো:
| বাহিনী/সংস্থা | মোতায়েন সদস্য সংখ্যা | কার্যক্রম |
|---|---|---|
| সেনাবাহিনী | ১,০০,০০০ | ভোটকেন্দ্রে টহল, ক্যাম্প স্থাপন, অস্ত্র উদ্ধার |
| নৌবাহিনী | ৫,০০০ | নদী ও জলপথে ভোটকেন্দ্র নিরাপত্তা |
| বিমানবাহিনী | ৩,৭৩০ | হেলিকপ্টার মোতায়ন, দুর্গম এলাকায় তাত্ক্ষণিক সহায়তা |
| পুলিশ, র্যাব, বিজিবি | বিপুলসংখ্যক | ভোটকেন্দ্র নিরাপত্তা, ড্রোন পর্যবেক্ষণ, চেকপোস্ট স্থাপন |
সেনাপ্রধান সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন, দায়িত্ব পালনে পেশাদারি, নিরপেক্ষতা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণ বজায় রাখতে হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সৈন্যদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা প্রদানে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনজুর বলেন, “আগের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৪০-৪২ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকলেও এবার ভোটকেন্দ্রের আঙিনার মধ্যেও টহল দেওয়া হচ্ছে। সারাদেশে ৬৪ জেলার মধ্যে ৬২ জেলার ৪১১টি উপজেলায় এবং মেট্রোপলিটন শহরগুলোতে ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচনের শান্তি বজায় রাখতে প্রতিদিন ২-২.৫ হাজার টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার—বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহৃত ভিডিও ও তথ্য—সর্বোচ্চ হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রচার করে অপতথ্য প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এছাড়া, সেনাবাহিনী চলমান অস্ত্র উদ্ধার অভিযানেও তৎপর। গত ১৪ দিনে প্রায় ১৫০টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ১০,১৫২টি অস্ত্র ও ২,৯১,০০০ গোলাবারুদ উদ্ধার এবং ২২,২৮২ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী মোতায়েন সরকারের নির্দেশে চলছে এবং কতদিন মাঠে থাকবে তাও সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। সাধারণ ভোটারদের নিরাপদ ও নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে।