খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভয় মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি, তবে সেই ভয়কে জয় করেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে হয়—এ কথাই নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বারবার তুলে ধরেন ভারতের প্রথম মিস ইউনিভার্স সুস্মিতা সেন। আজ যিনি আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তার প্রতীক, প্রতিযোগিতার মঞ্চে দাঁড়ানোর আগে তিনিও ভয়, সংশয় ও চাপের মুখোমুখি হয়েছিলেন। হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, মনে অজানা আশঙ্কা—সবই ছিল। তবু সেই ভয়কে শক্তিতে রূপান্তর করেই তিনি ১৯৯৪ সালে বিশ্বসুন্দরীর মুকুট ছিনিয়ে নেন এবং ইতিহাস গড়েন।
সুস্মিতা সেন মনে করেন, ভয়কে পরাজিত করার প্রথম শর্ত হলো কাজটিকে আপন করে নেওয়া। কোনো লক্ষ্য সামনে এলে সেটিকে কেবল দায়িত্ব হিসেবে নয়, নিজের স্বপ্ন হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তখন নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার তাগিদ তৈরি হয়। সেই আন্তরিক প্রচেষ্টাই ধীরে ধীরে ভয়কে দুর্বল করে দেয় এবং আত্মবিশ্বাসকে দৃঢ় করে তোলে। তাঁর ভাষায়, ভয় তখন আর বাধা থাকে না, বরং সাফল্যের পথে এক ধরনের অনুঘটকে পরিণত হয়।
প্রতিযোগিতা কিংবা জীবনের বড় কোনো সিদ্ধান্তের আগে কয়েক মিনিট নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর পরামর্শ দেন এই সাবেক বিশ্বসুন্দরী। তিনি বিশ্বাস করেন, নিরিবিলি মুহূর্তে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দিলে দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর হয়। গভীর শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার মাধ্যমে মনে জমে থাকা অস্থিরতা কমে আসে, মন শান্ত হয় এবং ইতিবাচক শক্তির জন্ম হয়। তাঁর মতে, মনকে পরিষ্কার করা বা ‘ডিটক্স’ করা যেমন শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়, তেমনি সাফল্যের জন্যও অপরিহার্য।
শুধু সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাতেই নয়, অভিনয়জীবন ও ব্যক্তিগত জীবনেও সুস্মিতা সেন এই দর্শনের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া, সামাজিক প্রশ্নের মুখে অবিচল থাকা এবং নিজের বিশ্বাসে অটল থাকার মধ্য দিয়ে তিনি দেখিয়েছেন ভয়কে জয় করার বাস্তব উদাহরণ।
নিচের সারণিতে সুস্মিতা সেনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অর্জন সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বছর | ঘটনা ও অর্জন |
|---|---|
| ১৯৯৪ | মিস ইউনিভার্স মুকুট অর্জন |
| ১৯৯৬ | বলিউডে অভিনয়জীবনের সূচনা |
| ২০০০ | একাকী নারী হিসেবে কন্যাশিশু দত্তক |
| ২০১০ | দ্বিতীয় কন্যাশিশু দত্তক গ্রহণ |
| বিভিন্ন বছর | দুটি ফিল্মফেয়ারসহ একাধিক পুরস্কার লাভ |
উল্লেখ্য, ১৮ বছর বয়সে ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া জয়ের পর সুস্মিতা সেনই প্রথম ভারতীয় ও প্রথম বাঙালি হিসেবে মিস ইউনিভার্সের মুকুট অর্জন করেন। বলিউডের পাশাপাশি তিনি তামিল ও বাংলা ভাষার সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন এবং অভিনয়ের জন্য সম্মানিত হয়েছেন নানা পুরস্কারে। পাশাপাশি দত্তক গ্রহণের মাধ্যমে তিনি মাতৃত্ব ও সামাজিক সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
সব মিলিয়ে, সুস্মিতা সেনের জীবনকথা প্রমাণ করে—ভয়কে এড়িয়ে নয়, তাকে চিনে নিয়ে জয় করলেই মানুষ নিজের লক্ষ্য ছুঁতে পারে।