খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
খবরের কাগজে মাঝেমধ্যেই দেখা যায় শিরোনাম, ‘অ্যামিবা সংক্রমণে কিশোরের মৃত্যু’, কিংবা ‘অদৃশ্য জীবাণুতে আক্রান্ত রোগীর অবস্থার অবনতি’। চিকিৎসা বিজ্ঞানে যার নাম নেগলারিয়া ফাউলারি, সাধারণ মানুষের কাছে তা এখন পরিচিত ‘মগজখেকো অ্যামিবা’ নামে।
অচেনা শত্রু
ঢাকার একটি নামকরা হাসপাতালে কয়েক বছর আগে ভর্তি হয়েছিলেন এক কিশোর। সাঁতার কাটতে গিয়ে নাক দিয়ে পানি ঢুকে যায়। কয়েক দিনের মধ্যেই তীব্র মাথাব্যথা, জ্বর আর খিঁচুনি শুরু হয়। চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন, এটি সাধারণ কোনো মেনিনজাইটিস নয়। পরীক্ষার পর জানা যায়—তার শরীরে বাসা বেঁধেছে ‘নেগলারিয়া ফাউলারি’। কয়েক দিনের মধ্যেই মৃত্যু। পরিবারের জন্য এক শোকাবহ স্মৃতি।
এমন ঘটনা বাংলাদেশে খুব বেশি শোনা না গেলেও প্রতিবছর কয়েকটি sporadic (বিক্ষিপ্ত) সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়।
কোথায় লুকিয়ে থাকে এ জীবাণু?
বিশেষজ্ঞরা জানান, উষ্ণ মিঠা পানিই এর প্রধান আশ্রয়। পুকুর, লেক, নদী কিংবা অপরিষ্কার সুইমিং পুলে এরা সহজেই বংশবিস্তার করে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা তৈরি হয় যখন পানি নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। তখন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মস্তিষ্কে পৌঁছে যায় এই প্রাণঘাতী অ্যামিবা।
মৃত্যুর ছায়া
চিকিৎসকদের ভাষায়, এটি এক ধরনের মস্তিষ্কসংক্রমণ, যার নাম প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিংগোএনসেফালাইটিস (PAM)। উপসর্গ শুরু হয় জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, খিঁচুনি দিয়ে। কিন্তু সংক্রমণ একবার শুরু হলে তা প্রায় থামানো যায় না। বিশ্বব্যাপী মৃত্যুহার ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, “সংক্রমণ শনাক্ত করা খুব কঠিন। রোগী যখন হাসপাতালে আসে, তখন অনেক সময়ই দেরি হয়ে যায়।”
প্রতিরোধই একমাত্র ভরসা
বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন—
জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, বাংলাদেশে এখনো এটি মহামারি আকারে দেখা দেয়নি, তবে ঝুঁকি অস্বীকার করার উপায় নেই।
অদৃশ্য আতঙ্ক
মগজখেকো অ্যামিবা নিয়ে সচেতনতার অভাবই সবচেয়ে বড় বিপদ। মানুষ এখনো জানে না—নাক দিয়ে প্রবেশ করা এই অদৃশ্য শত্রুই হতে পারে মৃত্যুর কারণ। চিকিৎসা-বিজ্ঞানে নতুন গবেষণা চললেও এখনো কার্যকর কোনো চিকিৎসা নেই।
শেষ পর্যন্ত বলা যায়, এ লড়াই পুরোপুরি প্রতিরোধ নির্ভর। আমরা যতটা সচেতন হব, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পানি ব্যবহার করব, ততটাই নিরাপদ থাকব এই অদৃশ্য আতঙ্কের হাত থেকে।
খবরওয়ালা/এমএজেড