রাজধানীর মতিঝিল এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ইমরান (৩৮) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহত ইমরান খুলনা জেলার খানজাহান আলী উপজেলার মৃত জলিল মোড়লের সন্তান বলে জানা গেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে গ্রিনল্যান্ড আবাসিক হোটেলে এই ঘটনা ঘটে। হোটেল কর্মীদের ভাষ্যমতে, ইমরান মঙ্গলবার ওই হোটেলে একটি কক্ষে ওঠেন। তিনি স্বাভাবিকভাবে অবস্থান করছিলেন এবং কোনো অসুস্থতার বিষয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনার দিন সকালে হঠাৎ করে হোটেলের সিঁড়ি এলাকায় তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। হোটেল কর্মীরা দ্রুত তার কাছে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল আটটা পঞ্চাশ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হোটেলের এক কর্মচারী জাহিদ জানান, সকালে সিঁড়ির পাশে পড়ে থাকতে দেখে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেন এবং হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট নয়, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ হোটেল কর্তৃপক্ষ, কর্মচারী এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রাথমিক তথ্যসারণি
| বিষয় |
বিবরণ |
| মৃত ব্যক্তির নাম |
ইমরান |
| বয়স |
৩৮ বছর |
| পেশা/পরিচয় |
প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাত |
| স্থায়ী ঠিকানা |
খানজাহান আলী উপজেলা, খুলনা |
| ঘটনাস্থল |
গ্রিনল্যান্ড আবাসিক হোটেল, মতিঝিল |
| সময় |
বুধবার সকাল |
| হাসপাতালে নেওয়ার সময় |
সকাল আনুমানিক আটটা চল্লিশ মিনিট |
| মৃত ঘোষণা |
সকাল আটটা পঞ্চাশ মিনিট |
| বর্তমান অবস্থা |
মরদেহ মর্গে রাখা আছে |
| তদন্তকারী সংস্থা |
সংশ্লিষ্ট থানা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ |
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি সাধারণ দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলেও জানা গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই হোটেলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন এবং নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।