খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৪ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সংঘাত এখন আশঙ্কাজনক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। জবাবে ইরানও প্রতিহত করে ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি ইরান আরব অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে, যেখানে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট, সামরিক হামলা চালাচ্ছে। এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এখন ১৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
মার্কিন-ইসরায়েলি ও ইরান বিরোধ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান মূলত ইরানের পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু ইরানের পাল্টা হামলা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই সংঘাতকে কেবল আকাশ বা সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে নি; বরং এটি একটি বহুমাত্রিক রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছে। ইরান লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ইয়েমেনের বিদ্রোহী বাহিনীকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ চালাচ্ছে।
প্রাণহানির পরিসংখ্যান
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা শনিবার জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাতে মোট ২২৮৭ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ইরান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, তবে অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্য ও আরব দেশেও প্রাণহানি ঘটেছে।
নিচের টেবিলটিতে দেশভিত্তিক প্রাণহানির তথ্য তুলে ধরা হলো:
| দেশ | নিহতের সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ইরান | ১৪৪৪ | মূল সংঘাত কেন্দ্র; তেল স্থাপনা ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ |
| লেবানন | ৭৭৩ | হিজবুল্লাহ ও আঞ্চলিক বিদ্রোহীদের সক্রিয় হামলা |
| ইরাক | ২৬ | সীমিত প্রতিহত আক্রমণ ও সাইড স্কোর যুদ্ধ |
| ইসরায়েল | ১৪ | পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণে নাগরিক ও সামরিক হতাহতের ঘটনা |
| যুক্তরাষ্ট্র | ১১ | সামরিক কর্মী নিহত; যুক্তরাষ্ট্রি ঘাঁটিতে আক্রমণ |
| সংযুক্ত আরব আমিরাত | ৬ | আঞ্চলিক ঘাঁটি ও অবকাঠামোতে ক্ষতি |
| কুয়েত | ৬ | সীমান্তবর্তী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত |
| ওমান | ৩ | সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষতি |
| বাহরাইন | ২ | আঞ্চলিক সংঘাতে সামান্য প্রাণহানি |
| সৌদি আরব | ২ | তেল ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত |
বিশ্লেষণ
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হুমকির মোকাবিলা কৌশলগতভাবে করেছে। খরগ দ্বীপ ও হরমুজ প্রণালীতে নৌ-প্রহরা বৃদ্ধির মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করেছে। আঞ্চলিক মিত্রদের সক্রিয় অংশগ্রহণ যুদ্ধকে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে নি, বরং বিশ্ববাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এত বড় প্রাণহানি এবং বহুমাত্রিক সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী পক্ষের অনুপস্থিতিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
মোটকথা, মধ্যপ্রাচ্যের এই দ্বন্দ্ব এখন কেবল সামরিক সংঘাত নয়; এটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।