খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ডাকসু নির্বাচন-২০২৫-এর সময় শিবির সমর্থিত প্রার্থীদের সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শেহরীন আমিন মনামীর বিরুদ্ধে। ছাত্রদলের প্রার্থীরা তাকে ‘রাজাকার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
নির্বাচন চলাকালে তাঁর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠায় ছাত্রদলের প্রার্থীরা মিডিয়ার সামনে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় মনামী তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে পিতার মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, তিনি কোনো রাজাকার নন, তিনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কিন্তু ইসলামী ছাত্র শিবিরকে তিনি পছন্দ করেন।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সময় টিএসসি কেন্দ্রে শেহরীন আমিন মনামীকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। সূত্র জানায়, তিনি শিবির-সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীদের প্রতি নমনীয় আচরণ করেছেন, যেখানে অন্যান্য দলের প্রার্থীদের সঙ্গে কড়া ব্যবহার করেছেন।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান মিডিয়ার সামনে অভিযোগ করেন, “মনামী ম্যাডাম শিবিরের সঙ্গে যুক্ত, তাই তাঁর পক্ষপাতিত্ব স্পষ্ট। তিনি রাজাকারের মতো আচরণ করছেন।” এই অভিযোগের ফলে মনামীকে ‘রাজাকার’ ট্যাগ দেওয়া হয়েছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
এরপরই শেহরীন আমিন মনামী তাঁর ফেসবুক পেজে পিতা ভুইয়া মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমি রাজাকার নই। আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, এবং আমি সেই ঐতিহ্যের সন্তান। এই অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল।”
তাঁর পিতা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী স্বীকৃত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। মনামী আরও বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে তিনি ছাত্রদের পক্ষে ছিলেন, কিন্তু ডাকসু নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে কলংকিত স্লোগান ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’ ছাত্রদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এই মনামী।
তিনি একবার বলেছিলেন, “মহি যদি শিবির হয়, তাহলে শিবির ভালো।” ‘মহি’ যিনি ঢাবি ছাত্র এবং ইসলামী ছাত্র শিবিরের এজিএস প্রার্থী। আগস্টের আগে অন্য রাজনৈতিক পরিচয় ধারণ করলেও, পরবর্তীকালে শিবিরের সক্রিয় সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এর ফলে মনামীকে শিবিরবান্ধব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মনামী দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে, যারা মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহায়ক ও বুদ্ধিজীবি নিধনের হোতা হিসাবে প্রমাণিত, তাদের সমর্থন করে আসছেন, তবু তাঁর হয়তো মনে ছিল না যে, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে এই সমর্থন নীতিগতভাবে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
ডাকসু নির্বাচনের এই ঘটনা ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে, যেখানে শিবিরের প্যানেলকে সাম্প্রতিক সার্ভেয়ে এগিয়ে দেখানো হলেও অন্যান্য দলগুলো নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও এই ঘটনায় কোনো বক্তব্য দেননি।
খবরওয়ালা/এমএজেড