খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদে নবনিযুক্ত দুই প্রতিমন্ত্রীর দাপ্তরিক দায়িত্ব বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ জারি করা হয়, যা আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ চারটি প্রশাসনিক বিভাগে নতুন গতিশীলতা আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিনিয়র সহকারী সচিব অজিত দেব স্বাক্ষরিত ওই অফিস আদেশে জানানো হয়েছে যে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারির প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে যারা মন্ত্রিপরিষদে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন, তাঁদের অনুকূলেই এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। আদেশে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ ও সংস্থাকে নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রীদের কার্যভার গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকারের এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তটি মূলত রাষ্ট্রীয় কাজের সমন্বয় ও গতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে।
নতুন দুই প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে হাবিবুর রশিদকে দেওয়া হয়েছে যোগাযোগ খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিভাগের দায়িত্ব। অন্যদিকে, মো. রাজিব আহসানকে নৌপথ ও বড় অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিচে তাঁদের দপ্তর বণ্টনের বিস্তারিত তথ্য একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| প্রতিমন্ত্রীর নাম | অর্পিত মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নাম | বিশেষ দায়িত্বের ক্ষেত্র |
| হাবিবুর রশিদ | সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় | জাতীয় মহাসড়ক সংস্কার, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং রেলের আধুনিকায়ন। |
| মো. রাজিব আহসান | নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগ | বন্দর ব্যবস্থাপনা, ড্রেজিং কার্যক্রম এবং পদ্মা সেতুসহ বড় প্রকল্প তদারকি। |
হাবিবুর রশিদ যে দায়িত্ব পেয়েছেন, তা দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে সড়ক ও রেলপথের শৃঙ্খলা ফেরানো এবং চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশেষ করে রেলের শিডিউল বিপর্যয় রোধ এবং নিরাপদ সড়কের দাবি পূরণ করাই হবে তাঁর অন্যতম প্রধান কাজ।
অন্যদিকে, মো. রাজিব আহসান নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের দায়িত্ব পাওয়ায় দেশের ব্লু-ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতি এবং মেগা স্ট্রাকচারগুলোর দেখভালের সুযোগ পাচ্ছেন। বাংলাদেশের ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে নদীমাতৃক এই দেশে নৌপথের নাব্যতা রক্ষা এবং দেশের প্রধান সেতুগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর দপ্তরের অন্যতম প্রধান কাজ হবে।
উল্লেখ্য যে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মন্ত্রিপরিষদে এই নতুন মুখগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শপথ গ্রহণের পর থেকেই তাঁদের দপ্তর বণ্টনের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল। আজকের এই দপ্তর বণ্টনের মাধ্যমে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে শূন্যতা পূরণ হলো। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিজ্ঞ ও নতুনদের সমন্বয়ে গঠিত এই মন্ত্রিপরিষদ দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এই ধরনের প্রশাসনিক রদবদল এবং দায়িত্ব বণ্টন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।
নতুন এই প্রতিমন্ত্রীবৃন্দ আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁদের নিজ নিজ দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের স্বাগত জানাতে এবং প্রয়োজনীয় ব্রিফিং প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।