বুধবার, ২৯ই এপ্রিল ২০২৬, ১৬শে বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ই এপ্রিল ২০২৬, ১৬শে বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ঈদ সংখ্যা ২০২৫

গল্প

মরাকান্দির বিল

আনিফ রুবেদ

প্রকাশ: সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫

মরাকান্দির বিল
ছবি: খবরওয়ালা গ্রাফিক্স

সন্ধ্যা। ইঁদুরগুলো খাল খুঁড়ে পৃথিবীর কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে? নাকি মরে গেলে মাটির সাথে মিশে যেতে কেমন লাগবে, তাই দেখে নেবার জন্য খাল খোঁড়ে? নাকি শুধুই খাল, যাতে গোপন থেকে বাস করা যায়? এত যে খাল খুঁড়ে তবু ইঁদুরদের শরীর বেশ চকচকে থাকে। এসব কথা একটা কিশোর ইঁদুরের দাঁত চুয়ে চুয়ে মাটিতে পড়ছিল আর ইঁদুরটি তাই চোখ দিয়ে দেখছিল।

মাটিতে আরও আরও খোঁড়ার কাজ করছিল বড় ইঁদুরগুলো; পৃথিবীর কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম তৈরি করছিল অথবা মরে গেলে মাটিতে মিশে যেতে কেমন লাগবে, তার পরীক্ষা করছিল অথবা তাদের নতুন বাসস্থান তৈরি করছিল, খাবার মজুত রাখার জায়গা তৈরি করছিল। আর কিশোর ইঁদুরটি বড় ইঁদুরদের এসব কর্মের ফলে ওঠা আলগা মাটির নরমতা নিয়ে খেলা করছিল।

পৃথিবীতে সন্ধ্যা কেন লাগে আর রাত কেন লাগে আর দিন কেন লাগে—

এসব একটা ভাবনার বিষয় মনে করে কিশোর ইঁদুরটি। এসব ভাবতে ভাবতে সন্ধ্যার বা রাতের অন্ধকারের গায়ে নিজেই একটি সুড়ঙ্গ তৈরি করবে বলে ভাবে; মাটিতে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার বয়স তার হয়নি। এখন মাটিতে সে খাল খুঁড়তে গেলে ইঁদুর সমাজ মেনে নেবে না। সে একটু অপেক্ষা করে সন্ধ্যাটার আরও একটু রস মরে গাঢ় হবার জন্য।

 

এটা একটা বড় মাঠ। মাঠের পুব মাথাতে একটা আর পশ্চিম মাথাতে একটা গ্রাম রয়েছে। এ গ্রামের মানুষ ওই গ্রামে যায়, ওই গ্রামের মানুষ এ গ্রামে যায়। দুই গ্রামের মধ্যে সবুজ ঘাস, ছোট ছোট ঝোপমাখা এই মাঠ।

উত্তর দিকে মরাকান্দির বিল। অচিন কথাতে আছে, এখানে নাকি মরা মানুষ কেঁদে উঠেছিল। লোকজন বিশাল জোরে জোরে কান্না শুনে মরাকান্দির দিকে গেছিল মিছিলের মতো করে। তারা গিয়ে দেখে, একটা লোক মরে পড়ে আছে। কয়েক দিন আগেই মরেছে মনে হয়, পচে গন্ধ বেরোচ্ছে। কোথাকার লোক কে জানে!

মরা দেখা মিছিলের একজনের প্রশ্নের উত্তরে মরা বলেছিল, ‘আমি মরে গেছি বলে কাঁদছি না, বেঁচে ছিলাম বলে কাঁদছি।’

প্রশ্ন করেছিল একজন, কিন্তু উত্তর শুনেছিল সকলেই। উত্তর শোনা লোকদের মধ্যে একজন তখন তাকে বলে, ‘তুমি তো মরে গেছ, তবে আর কথা বলছ কেন?’

তখন মরা মানুষটি নাকি বলেছিল, ‘এই শালা জিন্দা মানুষ! তোদের স্বভাব আর ভালো হবে না; এটা কেন, ওটা কেন! এত “কেন” কেন তোদের। তবু বলছি, মরার পর কথা বলার মধ্যে একটা আনন্দ আছে, তাই কথা বলছি।’

সে আবার কেঁদে ওঠে। লোকজন তখন লোকটিকে বিলের মধ্যে ফেলে দেয়। কারণ, তারা মরা মানুষের কান্না শুনতে পছন্দ করছিল না।

‘তাও হয়তো সহ্য করতাম কিন্তু তার কান্নার কারণটা মরে গেছে বলে নয়, বেঁচেছিল বলে, তাই তাকে জলে ফেলাই হয়েছে ভালো,’ এ কথা একটা লোক বলেছিল সকল লোকের হয়ে। সবাই মিলে মরাটাকে বিলে ফেলে দেয়।

এর পর থেকে বিলের নাম হয়ে গেল মরাকান্দির বিল।

 

আর দক্ষিণ দিকে আছে একটা বনের মতো। সেখানে শিয়ালেরা রাতে ডাকে। এরা পৃথিবীর রাতের সাইরেনের মতো নির্দিষ্ট সময় পরপর ডেকে ওঠে। শিয়ালেরা কেন ডাকে, কাকে ডাকে, সেটা বোঝা কঠিন। হতে পারে, তারা তাদের খাবার মৃত মুরগি বা জীবিত মুরগিকে ডাকে বা প্রস্তুত হতে বলে। শিয়ালেরা গ্রামের ভেতর ঢোকে রাত হলে। রাত এসব শিয়ালের খাবার জোগায় আর দিন খাবার কেড়ে নেয়। কিশোর ইঁদুরটি দিন-রাতের মানে তৈরি করার একটা সুযোগ পায়। এবার ইঁদুরটি যেহেতু অন্ধকারের গায়ে কোনো সুড়ঙ্গ বা খাল খোঁড়ার চেষ্টা করবে বলে মনে করেছিল আর যেহেতু সন্ধ্যার গা’টা তখনো ভোররাত হয়েছিল, তাই অপেক্ষা করছিল আর মাঠের বুক চিরে এই পায়ে হাঁটা রাস্তাটি দেখছিল।

 

পথটিকে বেশ উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল। কারণ, সন্ধ্যা হলে তার কাজ শেষ হয়ে যায়। সন্ধ্যার সময় খুব বেশি মানুষ আসে না এ পথে। পথটি একটু আরাম পায়। তার শরীরের ঘাম শুকাবার আর ঘুমাবার সুযোগ পায়। কিশোর ইঁদুরটি পথের মাঝখানে এসে প্রথমে পূর্ব দিকের গ্রামের দিকে তাকায়। গ্রামের ভেতরে অন্ধকার বেশ ঘন হয়ে সব ফাঁকফোকর দখল করে নিয়েছে। সেটাকে বিরাট একটা অন্ধকারের কঠিন বহুভুজ কালো পাথর খণ্ডের মতো দেখাচ্ছে। সে এবার পুব মুখে তার লেজকে নিয়ে যায় আর পশ্চিম দিকের পথের যত দূর দেখা যায়, দেখতে চেষ্টা করে। যদি নিশ্চিত হয়, কেউ আসছে না বা আসার সম্ভাবনা নেই, তবে সে অন্ধকারের গায়ে একটা সুড়ঙ্গ খোঁড়ার চেষ্টা করবে, যেমন করে তার জ্ঞাতিরা মাটির গায়ে খাল খুঁড়ছে। অন্ধকারের গা এখন কিশোর বলে মনে হলো। যুবক হলেই সে খোঁড়া শুরু করবে বলে ভাবল আর তাকিয়ে দেখল, পশ্চিম প্রান্তের পথ থেকে একটা শিশু যেন হেঁটে আসছে। শিশুর বয়স এক বছর হতে পারে বলে ধারণা করল। হালকা ঘন সন্ধ্যায় একটা শিশু কেন হেঁটে আসছে, তা বুঝতে পারে না। কিন্তু কেন হেঁটে আসছে এই ভাবনার ভেতর থেকে বেরিয়ে সে ভাবতে বসে, এই ছোট শিশুর জন্য সুড়ঙ্গ খোঁড়া থেকে সে বিরত থাকবে কি না। সে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে।

 

অন্ধকারের গা বেশি শক্ত হয়ে গেলে দাঁত বসানো কঠিন হবে। সে দাঁত বসানো শুরু করবে বলে সিদ্ধান্ত নিল আর তার আগে শিশুপথের দিকে সে আবার তাকিয়ে দেখল, শিশুটি এগিয়ে আসছে এবং এক বছর নয় শিশুটির বয়স, দুই বছর হবে বলে মনে হলো। দুবছর হলেও এই শিশুটিকে তেমন গুরুত্ব দেবার নাই মনে করল আর অন্ধকারের গায়ে একটা সুড়ঙ্গ করার জন্য পশ্চিমমুখী থেকে বিলমুখী হবার ইচ্ছা করল।

 

সে মরাকান্দির বিলের দিকে মুখ ঘোরানোর আগে আর একবার শিশুটির দিকে তাকাল। কিশোর ইঁদুরটি দেখল, না, দূরে থাকার কারণে, যে শিশুটিকে এক বা দুবছরের শিশু মনে হচ্ছিল, সে আসলে তিন বছরের। দুবছরের শিশু নয়, তিন বছরের শিশু হেটে হেঁটে আসছে। ইঁদুরটি মরাকান্দি বিলমুখী হয়ে পেছনের দুপায়ে ভর দিয়ে চকচকে দাঁত বের করে আর ধারালো দাঁত বের করে। সে প্রথম কামড়টি বসায় অন্ধকারের গায়ে সুড়ঙ্গ তৈরির জন্য। ‘আহ্’ বা এমন ধরনের একটি শব্দ শুনতে পায় কিশোর ইঁদুরটি। সে হঠাৎ করেই থেমে যায়। সে ভাবে, যে ছোট্ট শিশুটি হেঁটে আসছে, সে-ই শব্দ করল কি না।

 

সে যেদিক থেকে হেঁটে আসছে, সেদিকমুখী হয় কিশোর ইঁদুর। দেখে, না শিশুটি হেঁটেই আসছে এবং যাকে তিন বছরের একটি শিশু মনে করেছিল, সেটা আসলে চার বছরের শিশু এবং শিশুটি এই ‘আহ্’ আর্ত শব্দ করেছে বলে তার মনে হলো না। সে তার কাজে মনোযোগী হবার জন্য যে জায়গাতে প্রথম কামড় দিয়েছিল, সেখানে আবার কামড় বসায় আর কিছু অন্ধকার খুবলে নেয় অন্ধকারের গা হতে। এবারও ‘আহ্’ শব্দ শুনতে পায় সে দ্বিতীয় কামড় বসানোর সময়। সে এবারও থেমে যায় এবং বুঝতে পারে শিশুটি এই শব্দ করছে না। সে বুঝতে পারে এই শব্দ করছে আহত অন্ধকার।

 

শিশুটি কত দূর এল, দেখার জন্য কিশোর ইঁদুর আবার শিশুমুখী হয় আর দেখে শিশুটি আরও কিছুদূর এগিয়ে এসেছে আর যাকে মনে হয়েছিল চার বছর, সে আসলে পাঁচ বছর। বেশ দূরেই আছে সে এখনো। আরও কিছুটা কাজ এগিয়ে নেওয়া যায়। যখন শিশুটি একেবারে কাছে আসবে, তখন কিছুক্ষণ বিরত থাকতে হবে কাজ থেকে। আরও কিছুক্ষণ করা যাবে।

 

কিছুক্ষণ তার কাজ চালিয়ে নিয়ে আবার তাকাল শিশুটির দিকে। দেখল, তার বয়স ছয় হবে। ইঁদুরটি অবাক হয়। কাজ বন্ধ রেখে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখল তার হেঁটে আসার দিকে, শিশুটির বয়স এখন হলো সাত। সে হেঁটে আসছে। ইঁদুরটি তাকিয়ে আছে। সে আরও কিছুদূর হেঁটে এল আর তার বয়স হলো আট। সে আরও বেশি অবাক হয়ে গেল আর তার কাজ অবাকত্বের কাছে বন্দী হয়ে বন্ধ থাকল কিছুক্ষণ। যখন সে বুঝল তার কাজ বন্ধ থাকছে অবাক হবার কারণে, তখন সে তার অবাকত্বটিকে একটু সরিয়ে রাখে। শিশুর ব্যাপারে সে আর মনোযোগ দিল না।

সে তার খোঁড়া সুড়ঙ্গের দিকে মনোযোগী হলো। তৃতীয় কামড় বসালে সন্ধ্যাটা ‘আহ্’ করে উঠল যন্ত্রণায়। চতুর্থ কামড়। আহ্। পঞ্চম কামড়। আহ্। ষষ্ঠ। আহ্। ইঁদুরটা কামড় বসাতেই আছে দ্রুত। অন্ধকারের গা থেকে সুড়ঙ্গ খোঁড়া অন্ধকার খুলে খুলে পড়ছে। কিশোর ইঁদুর কামড় বসাতে বসাতেই খেয়াল করে আর যন্ত্রণাকর ‘আহ্’ শব্দ করছে না সন্ধ্যাটা। সে একটু হাঁপিয়ে উঠেছে। সে একটু দম ধরে।

 

সে এবার শিশুর হেঁটে আসার দিকে দেখে। দেখে, আট নয়, নয় বছরের একটি শিশু হেঁটে আসছে পথ দিয়ে। তখনের বিস্ময়টা, অবাকত্বটা আবার ধরে ফেলে কিশোর ইঁদুরকে। সে তাকিয়ে থাকে শিশুর হেঁটে আসার দিকে। শিশুটি আরও একটু এগিয়ে এলে কিশোর ইঁদুর বুঝতে পারে এর বয়স দশ বছর। অন্ধকারের গা আরও একটু ঘন হয়েছে। কিশোর ইঁদুর ভাবল অন্ধকার বেশি ঘন হয়ে গেলে শক্ত হয়ে যাবে। সে তার অসমাপ্ত সুড়ঙ্গের গায়ে আবার খোঁড়া শুরু করে। অন্ধকার আর যন্ত্রণাবিদ্ধ হয়ে ‘আহ্’ শব্দ করে না। সে নিশ্চিন্তে খুঁড়ে যায়। অন্ধকারের ঝুরি দিয়ে কয়েকটা গম তৈরি করে কুটকুট করে চিবিয়ে খেয়ে আবার কামড়ায়। কিশোর ইঁদুর মনে মনে ভেবে রাখে, কালকে যদি ভোর হয়, তবে কিছু রোদ রোদের গা থেকে কেটে নিয়ে এই সুড়ঙ্গতে ভরে রেখে দেবে। তাহলে সন্ধ্যা যখন আসবে, তখন এই রোদগুলো থেকে কিছুটা তাপ আর আলো পাওয়া যাবে। এই ভাবনা ভাবার পর ইঁদুরটি শিশুটির আসামুখী হয় আর দেখে সে বেশ কিছুদূর এগিয়ে এসেছে আর তার বয়স এগারো বছর হবে। শিশুটি হয়তো পৌঁছেই যাবে তার কাছাকাছি কিছুক্ষণের মধ্যে, তার আগেই সুড়ঙ্গ আরও কিছুটা খুঁড়ে ফেলা দরকার। সে সুড়ঙ্গ খোঁড়াতে মনোযোগী হবার আগে আরও একবার শিশুটির দিকে তাকায়। একটা বারো বছরের শিশু হেঁটে আসছে। ইঁদুর তার সুড়ঙ্গের ভেতর ঢুকে একটা কামড় বসায়, এ সময় শুনতে পায় ‘আহ্’। সে ভাবল অন্ধকার তো কিছুক্ষণ আগেই যন্ত্রণা পাওয়া ছেড়ে দিয়েছে, তবে আবার শব্দ করল কেন। সে সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে এসে দেখে বারো বছরের শিশুটি ‘আহ্’ করেছে। ইঁদুরটি ভাবল তার কাছাকাছি আসতে পারলে তার বয়স হতো তেরো বছর। তেরো বছরের কিশোরী। সেই ‘আহ্’ করেছে। সে বারবার বলছে, ‘আহ্, আমাকে ছেড়ে দাও, তোমাদের পায়ে পড়ি, ছেড়ে দাও।’

কিশোরীটিকে তারা টেনেহিঁচড়ে মরাকান্দির বিলের দিকে নিয়ে যেতে লাগল। চারজন লোক। ইঁদুরটি বিস্মিত হয়ে, বিভ্রান্ত হয়ে কিশোরীটির ‘ছেড়ে দাও, ছেড়ে দাও’ আর সাথে হৃদয়বিদারক কান্নার দিকে তাকিয়ে থাকল। ইঁদুরদের মেয়েটিকে বাঁচানোর ক্ষমতা নেই বলে সে অন্ধকারের বুকের ভেতর সুড়ঙ্গ কেটে আলো ঢোকানোর যে আয়োজন করেছিল, সে সুড়ঙ্গ সে ক্ষুব্ধ হয়ে বন্ধ করার উদ্যোগ করতে থাকে। সে চিন্তা করল, ইঁদুর সমাজে এমন করার ভাবনা কোনো ইঁদুরের মাথাতে আসবে না।

 

ঠিক সেই সন্ধ্যাটিকে, ইঁদুরের সে সন্ধ্যাটিকে, একটা কিশোর শিয়ালও দেখছিল দূর থেকে। সন্ধ্যা লাগার উপক্রমের সময় থেকেই তার চোখে সবুজ লাগা শুরু হয়ে গেছে। এসব সবুজ তার পেট থেকে, বুক থেকে উৎপন্ন হয়ে, চোখের ভেতর দিয়ে বের হয়ে আসছে। কিছুক্ষণ আগে মাত্র সে তার খাল থেকে বের হয়েছে আর চারপাশে তাকিয়ে দেখল কেউ কেউ জেগে গেছে, খাল থেকে বের হয়েছে। যারা খাল ছেড়েছে, তারাও তাদের শ্বাস দিয়ে রাতের অন্ধকার টেনে নিচ্ছে গভীরভাবে। এসব অন্ধকার ভেতরে ঢুকে প্রাণকে ছুঁয়ে ভেতরের সবকিছু ছুঁয়ে সবুজ রং হয়ে চোখ দিয়ে বের হচ্ছে। এখনো গাঢ় সবুজ হয়ে ওঠেনি, যেহেতু সন্ধ্যাটা এখনো ডাঁশা আছে, পুরোপুরি পাকেনি। সন্ধ্যা ভালোমতো পেকে গেলে তখন সকলেই সময়ের সাইরেন হয়ে অন্ধকারকে স্বাগত জানাবে।

 

যেহেতু আর কিছুক্ষণ আছে সন্ধ্যাটা যুবক হতে, তাই সে সন্ধ্যার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘বাবা, তুমি তাড়াতাড়ি আসো।’

সন্ধ্যাকে সে বাবা বলল, এতে সন্ধ্যাটা একটু সচকিত হয়, কিন্তু তার অন্ধকারকে ঘন করার জন্য গতির কোনো পরিবর্তন করল না। কিশোর শিয়াল সন্ধ্যাকে বাবা বলার পর চিন্তা করল, সন্ধ্যা হলো শিয়ালদের খাদ্যদাতা বাবা আর দিন হলো জন্মদাতা বাবা। যেমনভাবে রাত মানুষদের জন্মদাতা বাবা আর দিন খাদ্যদাতা বাবা। মানুষ রাত্রজ। বেশির ভাগ মানুষের জন্ম হয়েছে রাতের সংগমের কারণে আর শিয়ালদের জন্ম হয়েছে দিনের সংগমের ফলে। কারণ, রাতে তারা খাদ্য খোঁজাতে ব্যস্ত থাকে। এসব ভাবার পর সে মাঠের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথটার দিকে তাকায়। মানুষের হেঁটে যাবার পথ দরকার। অদ্ভুত মানুষগুলো, একই জায়গা দিয়ে হেঁটে যাবার অভ্যাস তাদের আর তাই পথ তৈরি হয়ে যায়। শিয়ালদের জন্য এমন কোনো পথ নেই। তাদের এ অভ্যাস নেই যে একই জায়গা দিয়ে হেঁটে হেঁটে সেখানের দূর্বাগুলোকে মেরে ফেলে পথ তৈরি  হয়ে যাবে।

 

সে পথের দিক হতে মুখ ফেরাতে যাবে, এমন সময় দেখল, একটা বারো বছরের কিশোরী হেঁটে হেঁটে আসছে। অন্য আর কোনো মানুষ পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে না। শিয়ালটা সন্ধ্যার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। সন্ধ্যা গাঢ় হয়ে গেলে তারা লোকালয়ের দিকে যাবে। মানুষদের খোঁয়াড়ে খোঁয়াড়ে মুরগি। মানুষের আচরণ যত সে দেখে, ততই অবাক হয়ে যায়। মুরগি তো সব প্রাণীর মতোই একটা প্রাণী। এতে মানুষের যতটুকু অধিকার, শিয়ালেরও তা-ই। অথচ তারা অযথাই মুরগিগুলোকে খোঁয়াড়বন্দী করে রাখে। এমন হলেই তো ভালো ছিল, মুরগিগুলো এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়াত, মানুষের প্রয়োজন পড়লে মানুষ ধরে খেত, শিয়ালের দরকার পড়লে শিয়ালে খেত। এবার সে মুরগির দিকটা চিন্তা করে, ‘তবে মুরগিরা কী করবে?’

এ প্রশ্ন জাগাতে তার চিন্তা সৃষ্টিরহস্যের একটা জটিল আবর্তে পড়ে যায়। তার মন হাঁসফাঁস করে ওঠে। সৃষ্টিজগৎ মানেই অহেতুক এক নির্মমতা। এক জীব আরেক জীবের ওপর নির্মমতার ছুরি চালিয়ে, দাঁত চালিয়ে বেঁচে থাকছে। এসব ভাবতে ভাবতে তার দম বন্ধ হয়ে আসে। মনটা হাঁচড়-পাঁচড় করে। কোনো রকমে বেরিয়ে আসে বৃক্ষ, মুরগি, মানুষ, শিয়াল আর অন্যান্য জীবের জীবন ধারণের জটিল জাল থেকে, জাল অবস্থা থেকে।

 

সে ভাবল, আগামীকাল ভোরে সে রোদের আলোর গায়ে একটা গর্ত তৈরি করবে আর কিছু অন্ধকারকে ঢুকিয়ে দেবে তৈরিকৃত গর্তে। এই জমাকৃত অন্ধকারের ভেতর একটা খাল খুঁড়ে, এর ভেতর লুকিয়ে থেকে লোকালয়ে চলে যাবে, যাতে করে কোনো মানুষ দিনের বেলাতেও দেখতে না পায় মরা মুরগি খাওয়ার সময় বা জীবিত মুরগি ধরার সময়। সন্ধ্যাটাকে বেশ ঘন মনে হলো কিশোর শিয়ালটির। সকল শিয়ালের চোখের ভেতর থেকে নীল আগুন ঠিকরে বের হচ্ছে। বৃদ্ধ শিয়ালের আদেশে কিছুক্ষণের মধ্যেই ডাক শুরু হবে।

 

সে পথের দিকে দেখল। কিশোরী মেয়েটিকে চারজন লোক টেনেহিঁচড়ে মরাকান্দির বিলের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মেয়েটি ‘আহ্, আমাকে ছেড়ে দাও, তোমাদের পায়ে পড়ি’ ইত্যাদি বাক্যের ইট তাদের দিকে ছুড়ে দিচ্ছে। এসব ইট তাদের কানের কাছে যেতেই রূপ পরিবর্তন করে দিচ্ছে বা তাদের কানগুলো এই অনুরোধের বাক্যগুলোকে ধরে পরিবর্তন করে দিচ্ছে। এতে করে তাদের কানের ভেতরে ‘আহ্ আমাকে ছেড়ে দাও’ অনুরোধবাক্য মধুর সংগীতের মতো বেজে উঠছে। তারা তাকে ধরে নিয়ে চলে গেল। শিয়াল আবার মানুষের আচরণ দেখে, বৈশিষ্ট্য দেখে চমকে ওঠে। মানুষ সত্যি ফালতু জীব। শিয়ালদের মধ্যে এমনটা অসম্ভব। কোনো শিয়ালই কখনোই তাদের স্ত্রীজাতির কারও প্রতি এমন করতে পারে না। মানুষের কাছে অন্য প্রাণী পশু, মানুষের জন্য মানুষও পশু বেশির ভাগ সময়। কিশোরীটির প্রতি কিশোরীটিরই জাতিরই এমন আচরণে বেকুব বনে গিয়ে বসে থাকে কিশোর শিয়াল। এদিকে বৃদ্ধ শিয়ালের আদেশে সমস্ত শিয়ালকুল নির্ভুল ছন্দে ডেকে উঠল— হুয়া…হুয়া…হুয়া…

 

দীর্ঘ এগারো বছর পর সে এই মরাকান্দির বিলের সন্ধ্যা দেখতে পেল। এত দিন সে সৌদি মুলুকে ছিল। ঢাকা বিমানবন্দরে বিমান থেকে নেমে তারপর বাসযোগে জেলা সদরে। সেখান থেকে আবার মিনিবাসে করে লালঘড়িপুর বাজারে। বাজার থেকে আর কোনো যান পাওয়া যায়নি। সেখানে থেকে কাঁচা পথে গ্রামে ঢোকা যায় কিন্তু সে সেদিকে যায়নি। চলে এসেছে এই বিলের ধার ধরে হাঁটতে হাঁটতে। মরাকান্দির বিলের ধার দিয়ে সচরাচর লোকজন হাঁটে না। বিলের ধার দিয়ে আসাতে আধা ঘণ্টার মতো পথ বেঁচে যাবে।

 

বিলের পুব মাথাতেই সন্ধ্যা লাগতে শুরু করেছিল। সে একটু পা’টাকে গতি দেয়। দ্রুত বিল পার হয়ে গেলে আর বেশি দূর নয়, পৌঁছে যাবে বাড়িতে। সে চিন্তা করে তাকে নিয়ে, মানুষকে নিয়ে, ‘জীবন ধারণ করার জন্য মানুষ কত কষ্ট করে। কোথায় কোথায় চলে যায়। জীবনকে টিকিয়ে রাখাই যদি মূল উদ্দেশ্য, তবে এসব জীবনের মানে কী? তারপর তো সেই মৃত্যু। কী ফলে এই মানবে, কী ফলের এই মানব?’

সে এসব চিন্তা বাদ দেবার জন্য একটা ঘাসের টুঁটি টিপে ধরে। ঘাসটা হাঁসফাঁস করতে থাকলেও ছাড়ে না। ঘাসটা নেতিয়ে পড়ে। সে দর্পে হেঁটে যায়—আমি বেঁচে থাকব, অন্য সবকিছু জাহান্নামে যাক।

তার সাথে তেমন কোনো ব্যাগট্যাগ নেই। তাই হাঁটতে পারছে বেশ। বহুদিন ধরে বিদেশে। টাকাপয়সা নিয়মিত পাঠিয়েছে। সে কখনো বাড়ি আসেনি ছুটিতে কিন্তু অন্য লোক যখন এসেছে, তখন তাদের হাতে মেলা কিছুই কিনে কিনে পাঠিয়েছে সে। সুতরাং সে প্রায় খালি হাতেই ফিরতে পারছে।

মরাকান্দির বিলে যে মড়াটা কথা বলে উঠেছিল আর লোকজন সেই মড়াটাকে বিলের জলে ডুবিয়ে দিয়েছিল। এ ঘটনা বা গল্পের বয়স কয়েক শ বা কয়েক হাজারও হতে পারে। সে মড়াকে এত দিন নিশ্চয়ই মাছেরা একেবারে হাড়মাংস পর্যন্ত খেয়ে ফেলেছে। আর এত দিনে যেসব মাছ এগুলো খেয়ে বড় হয়েছিল, সেসব মাছও মানুষের পেটে চলে গেছে আর মড়াটা তখনের সময়ে বেঁচে থাকা মানুষের মাংসে পরিণত হয়েছে মাছ-মাধ্যমে। তখনের বেঁচে থাকা মানুষেরাও আর কেউ নাই, মারা গেছে বহুদিন আগেই। তবে কে কেঁদে উঠল, কে বলে উঠল, ‘মা গো, মরে গেলাম গো।’

কোন দিক হতে শব্দটা ভেসে আসছে, সে ঠাহর করতে পারে না। সে বিলের দিকে তাকায়। জলেরা চুপচাপ। জলেরা ঘুমাচ্ছে। সে একটু ভয় পায়। সে ভয় পেয়ে একটু জোরে হাঁটার চেষ্টা করে। হাঁটার সময় আশপাশে দেখে কোনো লাঠি পাওয়া যায় কি না। বেশ শক্তপোক্ত একটা বাঁশের লাঠি সে হাতে পায়। জেলেদের বাঁশ। জেলেদের জাল পাতাতে এ বাঁশ কাজে লাগে। সে মনে মনে বলে, ‘ভূত হোক আর মানুষ হোক. তাকে কিছু করতে এলে মেরে তক্তা বানিয়ে দেবে। লোহুর ভেতর একফোঁটা জীবন থাকা পর্যন্ত ছাড় দেব না।’ সে এগোয়।

 

কিছুদূর এগোনোর পর হঠাৎ সে শব্দের উৎস দেখতে পায়। দেখে, ছোট একটা ঝোপের কাছে একটা বারো বছরের মেয়েকে চারজনে খুঁড়ছে। মেয়েটা গোঁ গোঁ করছে। সে একটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে যায়; ভূতের কারবার নাকি! আর যদি মানুষ হয়, তাহলে সে কী করবে; এদের চারজনের সাথে কি সে পারবে?

মেয়েটা আর গোঁ গোঁ করে না। আরও কিছুক্ষণ লোকগুলো মেয়েটাকে খোঁড়ে। ক্ষীণ চাঁদের আলোতে আবছা আবছা দেখা যাচ্ছে সব। মেয়েটার হাতে একটা দামি পাথরের আংটি ঝিকঝিক করছে। লোকগুলো মেয়েটাকে ফেলে রেখে চলে যায়। সে আরও কিছুক্ষণ বসে থাকে গাছের আড়ালে। কিছুক্ষণের মধ্যে নিরাপদ মনে হলে সে বের হয়ে আসে আর কিশোরীটির দিকে এগিয়ে আসে। চাঁদের আলোর ভেতর অপরূপ এক কিশোরী যেন শুয়ে আছে। তার হাতে আংটির পাথর ঝিকঝিক করছে। বেশ দামি আংটি হতে পারে। সোনার শরীরের দিকে, সোনার আংটির দিকে তাকিয়ে তার চোখ চকচক করে।

 

কিশোর শিয়ালটি বৃদ্ধ শিয়ালের হাঁক দেবার আগে কিশোরী মেয়েটিকে টেনে নিয়ে যেতে দেখে বৃদ্ধ শিয়ালের ডাকে শামিল হতে পারেনি। হুয়া…হুয়া…হুয়া… ডাকে সবাই শামিল হয়েছে কিন্তু সে অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখেছে একটা কিশোরী মেয়েকে কেন চারজন মানুষ জোর করে পথ থেকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। সে গুটি গুটি পায়ে গিয়ে বিলের কাছাকাছি যেখানে লোকগুলো থামে, তার কিছু দূরেই দাঁড়িয়ে পড়ে আর দেখতে থাকে একটি গাছের আড়ালে থেকে।

 

লোকগুলো মেয়েটাকে শুইয়ে দেয়, মুখ বেঁধে ফেলে। মেয়েটা গোঁ গোঁ শব্দ করে। মুখ বাঁধার আগে সে শুধু বলতে পেরেছিল, ‘ও গো মা গো, মরে গেলাম।’ কিশোর শিয়াল গাছের আড় থেকে মেয়েটার গোঁ গোঁ থেমে যাওয়া দেখে। দেখে, লোকগুলোর চলে যাওয়া। শিয়ালটা মেয়েটাকে পড়ে থাকতে দেখল। বুঝতে পারছে না মরে গেছে কি না। এবার সে মনে মনে একটু খুশি হয়। যাক, গ্রামে আর যেতে হবে না। মেয়েটার কচি নরম মাংসের স্বাদ পাওয়া যাবে। স্বপ্নের একটা পর্দা পড়ে তার চিন্তার ওপর। সে কিশোরীর নরম শরীরের দিকে এগিয়ে যায় টানা টানা পায়ে। কয়েক ধাপ এগোতেই সে দেখতে পায় বিপরীত দিক হতে একটা মানুষ এগিয়ে আসছে কিশোরীর শরীরের দিকে। লোকটা কেন আসছে, সে বুঝতে পারে না। লোকটা কি ক্ষুধার্ত? এর মাংস খেতে আসছে? নাকি ওই চারজন যা করল, এ লোকটাও মৃত মেয়েটার সাথে তা-ই করবে? শিয়ালটা ধন্দে পড়ে যায়। মানুষের প্রত্যেকটা আচরণ ধন্দে পড়ার মতো। ধন্দে পড়লেও লোকটার সাথে দ্বন্দ্বে জিতবে, মনোভাব নিয়ে সে-ও দৃঢ় পায়ে এগোল।

 

লোকটা এতক্ষণে শিয়ালটাকে খেয়াল করে। লোকটা একটা ‘হুস’ শব্দ করে। শিয়ালটা একটু পেছনে সরে। লোকটা এগোয়। এবার শিয়ালটা সাহস সঞ্চয় করে ‘খ্যাঁক’ শব্দ করে লোকটাকে ভয় দেখায়। লোকটা থমকে একটু পিছু সরে। শিয়াল এগোয়। একবার ‘হুস’, একবার ‘খ্যাঁক’ বেশ কিছুক্ষণ চলে। তারা খুব কম এগোতে পারছে কিন্তু পেছোয়নি কেউই। মাঝখানে রাজকুমারীর মতো শরীর নিয়ে, নগ্ন শরীর নিয়ে ঘাসের ওপর কিশোরী। যেন রঙিন প্রজাপতির ছেঁড়া ডানা পড়ে আছে। লোকটা কেন যেন একটু থমকে গিয়ে পিছু সরল। শিয়ালটা ভাবল, লোকটা রণে ভঙ্গ দিয়েছে। কিন্তু শিয়ালটা কিশোরীর শরীরে মুখ ঠেকাতে যাবে, এমন সময় লোকটা তার লাঠি নিয়ে দৌড়ে এসে শিয়ালের গায়ে বসায়। শিয়ালটা দ্রুত সরে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ায়। আঘাত একটু লেগেছে, কিন্তু তেমন না।

লোকটা আংটিটা খুলে নিয়ে দাঁড়ায়। তার চোখ চকচক করে। এখনো শরীরে তাপ আছে। সে নাকের কাছে হাত দেয়। না, শ্বাস নেই। সে মেয়েটার দিকে তাকাল আবার। তারপর ‘মরে গেছে মেয়েটা’ বলে দীর্ঘশ্বাস মোচন করে চলে যায়। যেতে যেতে পেছন ফিরে দেখে শিয়ালটা মেয়েটার শরীরের দিকে এগোচ্ছে গুটি গুটি পায়ে।

 

কিছুদূর লোকটা এগিয়ে আসতেই দেখে, কজন মানুষ একটা হারিকেন নিয়ে মাঠের পথটা ধরে এগিয়ে আসছে। তাদের হারিকেন খুব বেশি অন্ধকার কাটতে পারছে না। লোকটার মুখোমুখি হলে সে চিনতে পারে মানুষ দুটিকে। একজন তার স্ত্রী আর একজন পাশের বাড়ির একটি খালা। স্বামী-স্ত্রী এভাবে দেখা হতে খুবই দুজনেই অবাক হয়, ‘আরে, তুমি!’

‘তুমি আসার কথা চিঠিতে যেভাবে বলেছিলে, তাতে তো মনে করেছিলাম আরও মাসখানেক পর আসবে।’

‘আগেই ছুটি পেয়ে গেলাম, চলে এলাম। যাকগে কোথায় যাচ্ছ?’

‘আমাদের বারো বছরের মেয়েটা পুব গাঁয়ে গেছিল ওর মামার বাড়ি। এখনো ফিরল না কেন বুঝতে পারছি না। এখন, সেখানে থেকে গেল, নাকি পথে কোনো বিপদ হলো? কিশোরী মেয়ে, বেশ দুশ্চিন্তা হচ্ছে।’

লোকটা একটু বিষণ্ন হয়, কেঁপে ওঠে অজানা আশঙ্কায়। তার হাত থেকে আংটিটি মাটিতে পড়ে যায়।

স্ত্রীটি চিৎকার দিয়ে ওঠে, ‘এই আংটি তুমি কোথায় পেলে, এটাই তো আমাদের ফুলেরার আংটি।’

তারা দ্রুত মরাকান্দির বিলের দিকে যেতে থাকে। অজস্র শিয়ালও দক্ষিণ দিকে জঙ্গল থেকে এলোপাতাড়ি গতিতে যাচ্ছে।

 

মরাকান্দির বিলের ধারে কোনো একটা মড়া কাঁদছে, গ্রামের লোকজন শুনতে পায়। কেউ কেউ অজানা আশঙ্কায় ঘরে সেঁধিয়ে যায়। কেউ কেউ মরাকান্দির বিলের দিকে মড়ার কান্নার শব্দের দিকে হাঁটা ধরে…