খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৪ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাইসা মণি ছিলো মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কাই (আকাশ) সেকশনের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। গত সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে এই স্কুলের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে রাইসা নিখোঁজ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না মেলায় উদ্বিগ্ন পরিবার পরদিন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) মর্গে যায়। সেখানেই পুড়ে যাওয়া একটি মরদেহ দেখে রাইসার বাবা-মায়ের মনে হয়, এটাই তাঁদের মেয়ে। তবে ওই একই মরদেহ দাবি করছে আরেক পরিবারও।
এই জটিল অবস্থায় এখন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মরদেহের শনাক্তকরণের জন্য উভয় পরিবারকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।
রাইসার মা বলছেন, “সবাই দোয়া করবেন, যেন আমার পাখিটাকে ফিরে পাই। ডিএনএ রিপোর্ট যেন আমাদের সঙ্গে মিলে যায়।”
মঙ্গলবার রাতে রাইসার বাবা শাহাবুল ও তাঁর স্ত্রীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য। তবে এ প্রক্রিয়ায় সময় লাগছে। এরই মধ্যে কখনো মর্গ, কখনো থানায় ছুটে বেড়াচ্ছেন তাঁরা, যাতে মেয়ের মরদেহটি যত দ্রুত সম্ভব ঘরে আনতে পারেন।

সুন্দর ছবি আঁকত রাইসা
রাইসার মা সিএমএইচে থাকা মরদেহটি স্বচক্ষে দেখার সুযোগ পাননি। কেবল বাবা লাশটি দেখেছেন। তবে মা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করছেন, সেটিই তাঁর মেয়ে। বলছেন, মেয়ের ডান কানটি একটু ব্যতিক্রম ছিল, একটু খাড়া—সেই পরিচয় এখনও বোঝা যায়। তিনি বলেন, “আমি তো মা। মেয়েকে গোসল করিয়ে দিতাম, শরীর মুছে দিতাম, মুখে ভাত তুলে খাইয়ে দিতাম। আমি কি আমার মেয়েকে চিনব না? কিন্তু আমাকে তো দেখতে দেওয়া হয়নি—শুধু মোবাইলে ছবি দেখেছি।”
ঘটনার দিন রাইসার ক্লাসরুম ছিল হায়দার আলী ভবনে, যেখানে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এক শিক্ষক জানিয়েছেন, ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে রাইসা চার বান্ধবীর সঙ্গে ক্লাসের পেছনের বেঞ্চে বসে টিফিন খাচ্ছিল।
রাইসার মা বলেন, “একটি লাশ দেখে মনে হয়েছে, এটাই আমার রাইসা। তবে যেহেতু আরেকটি পরিবারও মনে করছে, সেটি তাদের মেয়ের মরদেহ হতে পারে, তাই আমরাও ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় আছি। আমরা যেমন বাবা-মা, তারাও তো বাবা-মা।”
এই অপেক্ষা শুধু একটি শনাক্তকরণের নয়, একটি প্রিয় মুখকে শেষবার নিজের বলে নিশ্চিত করার আকুতির।
খবরওয়ালা/এমএজেড