আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ, ২০২৬) এক অপূর্ব মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। এদিন আকাশে দৃশ্যমান হবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, যা বিজ্ঞানপ্রেমী ও আকাশ পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। গ্রহণ চলাকালে চাঁদ এক বিশেষ তামাটে বা লালচে বর্ণ ধারণ করবে, যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ব্লাড মুন’ বা ‘রক্তাভ চাঁদ’ বলা হয়। ২০২৬ সালের জন্য এটিই হবে একমাত্র এবং শেষ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গ্রহণের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া
আইএসপিআর প্রদত্ত তথ্যমতে, আজ মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই গ্রহণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে পূর্ণগ্রাস রূপটি দেখার জন্য বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের ঠিক মাঝখানে অবস্থান করে, তখন সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে পারে না। পৃথিবীর ছায়া চাঁদকে সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলে। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে আসা সূর্যের প্রতিসারিত লাল আলো চাঁদের গায়ে প্রতিফলিত হয় বলে আমরা একে লালচে দেখি।
নিচে গ্রহণের বিভিন্ন পর্যায়ের সঠিক সময়সূচি তুলে ধরা হলো:
| গ্রহণের পর্যায় | সময় (বাংলাদেশ মান সময়) |
| চাঁদ উপচ্ছায়ায় প্রবেশ | দুপুর ২টা ৪২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড |
| আংশিক গ্রহণ শুরু | বিকেল ৩টা ৫৪ মিনিট ১২ সেকেন্ড |
| পূর্ণ গ্রহণ শুরু | বিকেল ৫টা ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড |
| কেন্দ্রীয় গ্রহণ (সর্বোচ্চ মাত্রা) | বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ড |
| পূর্ণ গ্রহণ শেষ | সন্ধ্যা ৬টা ৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ড |
| আংশিক গ্রহণ শেষ | সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ড |
রক্তাভ চাঁদের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, গ্রহণ হলে চাঁদ কালো না হয়ে লাল দেখায় কেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের বায়ুমণ্ডলের আলোক বিচ্ছুরণ প্রক্রিয়ায়। যখন সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ একই সরলরেখায় আসে, তখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের সাদা আলো থেকে নীল ও বেগুনি রঙের ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যগুলোকে চারদিকে ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যগুলো বায়ুমণ্ডল ভেদ করে প্রতিসারিত হয়ে চাঁদের অন্ধকার পৃষ্ঠে গিয়ে পড়ে। এই বিশেষ আলোক পরিস্থিতির কারণে গ্রহণ চলাকালে চাঁদ তামাটে বা রক্তবর্ণ ধারণ করে। এবারের গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১.১১৫।
পরবর্তী সুযোগ ও পর্যবেক্ষণ
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, আজকের এই বিরল সুযোগ হাতছাড়া করলে পরবর্তী পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য ২০২৮ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রতীক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশ থেকেও আকাশ পরিষ্কার থাকা সাপেক্ষে এই দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য সূর্যের মতো কোনো বিশেষ ফিল্টার বা চশমার প্রয়োজন হয় না; এটি খালি চোখেই নিরাপদে দেখা সম্ভব। তবে টেলিস্কোপ বা শক্তিশালী বাইনোকুলার ব্যবহার করলে চাঁদের পৃষ্ঠের পরিবর্তনগুলো আরও স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
আজকের এই মহাজাগতিক আয়োজন প্রকৃতির এক অনন্য নিদর্শন, যা মহাকাশ নিয়ে মানুষের কৌতূহলকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ঢাকার আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের পর থেকে পূর্ব আকাশে এই রক্তাভ চাঁদের মোহনীয় রূপ সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



