চট্টগ্রামমুখী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ এলাকায় অজ্ঞাতনামা একটি গাড়ির ধাক্কায় শাহিন আলম (১৫) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার সোনাপাহাড় এলাকার কাছাকাছি মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত শাহিন আলম মিরসরাই উপজেলার ৮ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের পূর্ব রায়পুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি আবুল হোসেনের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শাহিন স্থানীয়ভাবে পরিচিত ও পরিবারের সদস্যদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিল। তার অকাল মৃত্যু পরিবারে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের একটি টহল দল সোনাপাহাড় এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর পায়। খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় শাহিনকে উদ্ধার করে। পরে তাকে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মস্তাননগর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহিন মারা যায়। দুর্ঘটনার পর দায়ী গাড়িটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় সেটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে চালক ও গাড়ি শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দুর্ঘটনার বিষয়ে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, জাতীয় জরুরি সেবা থেকে তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং আহত কিশোরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ি ও চালক বর্তমানে পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়কপথ। প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করে। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা, পথচারীদের অসতর্কতা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতে গতিনিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত নজরদারি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পথচারীদের জন্য নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা জরুরি।