খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করার অংশ হিসেবে মাটির নিচে নির্মিত একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি উন্মোচন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা দেশটির কৌশলগত বার্তাকে আরও স্পষ্ট করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘাঁটির তথ্য প্রকাশ করে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আব্দুল রহমান মৌসাভি এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের এরোস্পেস বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সায়েদ মাজেদ মৌসাভির উপস্থিতিতে ঘাঁটিটির উন্মোচন করা হয়। এ সময় সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কমান্ডার উপস্থিত ছিলেন। তারা ঘাঁটির অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন ব্যবস্থা, প্রস্তুতি ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা পর্যালোচনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান বলেন, ইরান বর্তমানে যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাঁর ভাষায়, “গত বছরের জুনে ইসরাইলের সঙ্গে টানা ১২ দিনের সংঘাতের পর আমরা আমাদের সামরিক কৌশলে মৌলিক পরিবর্তন এনেছি। প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে বেরিয়ে আমরা এখন আক্রমণাত্মক ও প্রতিরোধমূলক—উভয় ধরনের সক্ষমতা একসঙ্গে জোরদার করছি।” তিনি আরও বলেন, দ্রুত সময়ে বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনা, অসম যুদ্ধকৌশল প্রয়োগ এবং প্রতিপক্ষের আধুনিক সামরিক পরিকল্পনাকে নিষ্ক্রিয় করার দিকেই এখন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাটির নিচে নির্মিত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ইরানের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা নীতির অংশ। এসব ঘাঁটি সাধারণত পাহাড়ি বা শক্ত ভূগর্ভস্থ এলাকায় নির্মিত হয়, যাতে শত্রুপক্ষের বিমান হামলা বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে এগুলো থেকে দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সম্ভব হওয়ায় প্রতিপক্ষের জন্য আগাম প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের আশপাশের অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরী এবং অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। এর মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর সরাসরি হামলা চালায়, তাহলে তার প্রতিক্রিয়ায় আঞ্চলিক পর্যায়ে বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
নিচের সারণিতে ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির সাধারণ বৈশিষ্ট্য ও কৌশলগত গুরুত্ব সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অবস্থান | পাহাড়ি বা গভীর ভূগর্ভস্থ এলাকা |
| প্রধান উদ্দেশ্য | বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষা |
| কৌশলগত সুবিধা | গোপন মোতায়েন ও দ্রুত উৎক্ষেপণ সক্ষমতা |
| সামরিক বার্তা | প্রতিরোধ ও পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা প্রদর্শন |
| আঞ্চলিক প্রভাব | প্রতিপক্ষের কৌশলগত হিসাব জটিল করা |
সার্বিকভাবে, নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির উন্মোচন শুধু একটি সামরিক স্থাপনার ঘোষণা নয়; বরং এটি ইরানের কৌশলগত অবস্থান, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তির প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।