খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ধ্বংসলীলা চলছেই, এবং এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত অন্তত ২,৬৭৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯,৯০৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এবং দমন অভিযানে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষ এখনও নিহত বা আহতদের আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি, ফলে বাস্তব পরিসংখ্যান জানা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভর করছে।
বিক্ষোভ শুরু হয় ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড বাজার থেকে। মূলত দোকানদার ও ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি, জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের অবমূল্যায়ন, এবং অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে এ আন্দোলন শুরু করেন। এরই সঙ্গে শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষও এতে অংশ নেন। ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক প্রতিবাদ সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয় এবং দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
| বিষয় | সংখ্যা / বিবরণ |
|---|---|
| নিহত | ২,৬৭৭ জন (এইচআরএএ রিপোর্ট অনুযায়ী) |
| গ্রেফতার | ১৯,৯০৭ জন |
| বিক্ষোভের সূচনা | ২৮ ডিসেম্বর, তেহরান গ্র্যান্ড বাজার |
| মূল দাবি | মূল্যস্ফীতি, রিয়ালের অবমূল্যায়ন, অর্থনৈতিক সংকট |
| অংশগ্রহণকারী | শিক্ষার্থী, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, সাধারণ জনগণ |
বিক্ষোভে মৃত্যুর উচ্চ সংখ্যার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, আর ইউরোপীয় দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক প্রস্তুতি পুনর্বিবেচনা করছে।
ইরানের প্রতিবেশী দেশ তুরস্ক এই অস্থিরতাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, এই আন্দোলন যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে দেশটির অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে নজরদারি এবং তৎপরতা বাড়াবে।