খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৯ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মানিকগঞ্জের কালীগঙ্গা নদীঘেঁষা একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। মাথাবিহীন লাশ উদ্ধারের পাঁচদিন পর নিহত অটোরিকশাচালক রফিক মিয়ার (২৭) বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৯ মার্চ) সকালে সদর উপজেলার দিঘুলিয়া এলাকার নদীপাড়সংলগ্ন একটি ভুট্টাখেত থেকে মাথাটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে এক কৃষক ভুট্টাখেতে কাজ করার সময় প্রথমে মাথাটি দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। খবর পেয়ে বানিয়াজুরী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাথাটি উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠায়। পুলিশের ধারণা, হত্যার পর মাথাটি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল এবং তা ভেসে এসে পরে ভুট্টাখেতের পাশে আটকে যায়। পরে কুকুর বা শেয়ালের মাধ্যমে এটি খেতের ভেতরে চলে যেতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে গত বুধবার বিকেলে কালীগঙ্গা নদীর পাড় থেকে রফিক মিয়ার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাঁচদিনের ব্যবধানে এখন তার মাথা উদ্ধারের মাধ্যমে পুরো ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ উদঘাটিত হলো।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী জানিয়েছেন, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রফিককে গলাকেটে হত্যা করার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। তবে উদ্ধার হওয়া মাথাটি রফিকের কি না, তা ফরেনসিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত রফিকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রিপন মিয়া (৩০), আরমান হোসেন (২০) এবং সজিব হোসেন (২৫) এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তারা রফিকের অটো রিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পিবিআই ইতোমধ্যে তিনজনকেই গ্রেফতার করেছে এবং তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ বর্ণনা উঠে এসেছে, যেখানে দেখা যায় পরিকল্পিতভাবে রফিককে ফাঁদে ফেলা হয় এবং পরবর্তীতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
নিম্নে ঘটনায় জড়িতদের সংক্ষিপ্ত তথ্য দেওয়া হলো—
| নাম | বয়স | ভূমিকা | অবস্থা |
|---|---|---|---|
| রিপন মিয়া | ৩০ | হত্যার পরিকল্পনাকারী ও প্রধান অভিযুক্ত | গ্রেফতার |
| আরমান হোসেন | ২০ | হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সহায়তাকারী | গ্রেফতার |
| সজিব হোসেন | ২৫ | সহায়তাকারী (অটো ও দেহ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা) | গ্রেফতার |
তদন্ত অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সকালে রফিক অটো নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন এবং এরপর তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন নদীর পাড় থেকে তার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যার পর অভিযুক্তরা রফিকের অটো নিয়ে ঢাকার সাভারে পালিয়ে যায় এবং পরে সেটি একটি গ্যারেজে লুকিয়ে রাখে বলে জানা গেছে, যা পরে পুলিশ উদ্ধার করে।
এদিকে, স্থানীয় এলাকাবাসী এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রোববার দুপুরে বানিয়াজুরী-ঘিওর সড়কে মানববন্ধন করে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। তাদের দাবি, এমন নৃশংস ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করতে সাহস না পায়।
বর্তমানে পুরো ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।