খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে ২০২৬
মানিকগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২২ জনের শরীরে হাম (মিজেলস) সদৃশ উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরে জেলায় মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০৮ জনে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বুধবার (২০ মে) মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং আক্রান্তদের মধ্যে যাদের শারীরিক অবস্থা জটিল, তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে মোট ৬৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১৪ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশের শরীরে জ্বর, লালচে দানা, দুর্বলতা ও সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, যা হাম রোগের সাধারণ লক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হাম প্রতিরোধ ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং অন্যান্য সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন রোগী শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বিস্তার রোধে অভিভাবকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় উপসর্গ শনাক্তে তদারকি কার্যক্রমও পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাধারণত জ্বর, চোখ লাল হওয়া, সর্দি, কাশি এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এ রোগের প্রধান উপসর্গ। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা না হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তারা আরও জানিয়েছেন, হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের নির্ধারিত বয়সে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো শিশুর শরীরে জ্বর বা লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত শয্যা, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য পরিবারগুলোকে শিশুদের টিকাদান সম্পন্ন করা, অসুস্থ ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।