খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ মারিয়া কোরিনা মাচাদো চলতি সপ্তাহে এক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গোপন অভিযানের মাধ্যমে দেশ ছাড়েন। লক্ষ্য ছিল নরওয়ের রাজধানী অসলো—সেখানে নিজে উপস্থিত থেকে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করা। তবে আত্মগোপনে থাকা একজন বিরোধী নেত্রীর জন্য ভেনেজুয়েলা থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসা ছিল প্রায় অসম্ভব এক চ্যালেঞ্জ। সামরিক তল্লাশিচৌকি এড়িয়ে চলা, উত্তাল ক্যারিবীয় সাগর পাড়ি দেওয়া এবং মার্কিন ড্রোন হামলার আশঙ্কার মধ্যেই তাঁকে এই বিপজ্জনক যাত্রা সম্পন্ন করতে হয়েছে।
জানা গেছে, মাচাদো কয়েকটি নৌযানের একটি বহরের সঙ্গে গোপনে যাত্রা শুরু করেন। তাঁর গন্তব্য ছিল ক্যারিবীয় অঞ্চলের একটি দ্বীপ, যেখানে আগে থেকেই একটি উড়োজাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু এই যাত্রা এমন এক সময়ে শুরু হয়, যখন ভেনেজুয়েলার আশপাশের সাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত নৌযানে হামলা চালাচ্ছিল। এসব অভিযানে ইতিমধ্যে বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ফলে পুরো পথজুড়েই ছিল অনিশ্চয়তা ও ভয়।
সব বাধা পেরিয়ে মাচাদো শেষ পর্যন্ত অসলো পৌঁছাতে সক্ষম হন। যদিও তিনি সেখানে পৌঁছান বুধবার রাতে—ততক্ষণে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেছে। তবু তাঁর নিরাপদে পৌঁছানোকে সমর্থকেরা দেখছেন বড় সাফল্য হিসেবে। মাদুরো সরকারের কঠোর নজরদারি এড়িয়ে এই যাত্রা প্রমাণ করে, মাচাদো এখনও ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
গত এক বছর ধরে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন মাচাদো। তাঁকে আটক করতে রাষ্ট্রযন্ত্র সক্রিয় থাকলেও শেষ পর্যন্ত সরকারকে বোকা বানিয়ে দেশ ছাড়তে সক্ষম হন তিনি। এই অভিযানে বড় ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বেসরকারি নিরাপত্তা ও উদ্ধার সংস্থা—‘গ্রে বুল রেসকিউ’।
ফ্লোরিডার ট্যাম্পা শহরভিত্তিক এই সংস্থাটি পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ব্রায়ান স্টার্ন। ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে অংশ নেওয়া এই সাবেক সেনা বলেন, মাচাদোকে উদ্ধার করা তাঁদের জন্যও ছিল অত্যন্ত কঠিন। তাঁর ভাষায়, “আমাদের প্রতিষ্ঠান সাধারণত কম পরিচিত ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভ্যস্ত। কিন্তু মাচাদো ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ। এটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার অভিজ্ঞতা থেকেই ‘গ্রে বুল রেসকিউ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। মাচাদোর এই উদ্ধার ছিল সংস্থাটির প্রায় ৮০০তম অভিযান। যদিও স্টার্নের সব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে মাচাদোর এক প্রতিনিধি নিশ্চিত করেছেন যে, এই সংস্থার সহায়তাতেই তিনি নিরাপদে দেশ ছাড়তে পেরেছেন। ভেনেজুয়েলা ছাড়ার এই নাটকীয় অধ্যায় লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নেত্রীর নাম | মারিয়া কোরিনা মাচাদো |
| গন্তব্য | অসলো, নরওয়ে |
| যাত্রাপথ | ক্যারিবীয় সাগর হয়ে একটি দ্বীপ |
| সহায়তাকারী সংস্থা | গ্রে বুল রেসকিউ |
| সংস্থার অবস্থান | ট্যাম্পা, ফ্লোরিডা |
| অভিযান নম্বর | প্রায় ৮০০তম |
| প্রধান ঝুঁকি | সামরিক তল্লাশি, সমুদ্রপথ, ড্রোন হামলার আশঙ্কা |
এই ঘটনাটি শুধু একটি গোপন উদ্ধার অভিযান নয়, বরং ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক শক্তির জটিল ভূমিকার একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ।