অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
নওগাঁর পত্নীতলায় নির্মাণাধীন মার্কেটের চারপাশে টিন দিয়ে ঘেরাও করে ৭০ লাখ টাকা চাঁদার অভিযোগে নজিপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুমের নাম উঠে এসেছে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে তাসলিমা জান্নাত নামে এক ভুক্তভোগী নারী এই ঘটনায় মামলা করেছেন। মামলায় আব্দুল্লাহ আল মাসুম ও আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে, পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫-১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনা ঘটেছে দুপুর ১টার দিকে উপজেলা নজিপুর বাসস্ট্যান্ড-ধামইরহাট আঞ্চলিক সড়কে নির্মাণাধীন রহমান মার্কেটে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সকাল থেকেই তাসলিমা জান্নাতের বড় ভাই আরিফ রেজা মার্কেটের কাজ পর্যবেক্ষণ করছিলেন। দুপুরে আব্দুল্লাহ আল মাসুম ও তার অনুসারীরা লাঠিসোঁটা ও টিন নিয়ে মার্কেটের চারপাশ ঘেরাও করতে শুরু করেন।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কেট চালু করতে হলে মাসুম নগদ ৭০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ার ফলে তার অনুসারীরা পুনরায় মার্কেট ঘেরাও করেন। বাঁধা দিলে আরিফ রেজাকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। পরে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদেরও হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনাটি মার্কেটের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভুক্তভোগী থানায় মামলা করেন।
তাসলিমা জান্নাত বলেন, বিএনপি পরিচয়ে মাসুম এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। মার্কেট ঘেরাও করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, ৭০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা এবং আমাদের পরিবারের ওপর হুমকি প্রদান তার কর্মকাণ্ড। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ ঘটনার সময় সহায়তা না করায় পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
অভিযোগের বিষয়ে নজিপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও মোবাইল বন্ধ থাকায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. এনায়েতুর রহমান বলেন, মামলার প্রাথমিক তদন্তে চাঁদাবাজির সত্যতা পাওয়া যায়নি। পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও আর্থিক লেনদেনের বিষয় থাকায় আসামিদের গ্রেফতার করা হয়নি। তবে তদন্ত চলমান আছে এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দীক নান্নু বলেন, ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো পূর্বপরিচিতি নেই। ৭০ লাখ টাকার চাঁদা দাবির বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। তদন্তের পরে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।