মালাইকা অরোরা—নামটি বলিউডে একটি সুপরিচিত আইকন। আরবাজ খানের সঙ্গে ১৯৯৮ সালে বিয়ের পর থেকে তাদের সম্পর্ক ও বিচ্ছেদ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে। বিচ্ছেদের পর মালাইকা অর্জুন কাপুরের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা পরে ভেঙে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে আবারও মালাইকা নতুন প্রেম ও মিডিয়ার নজর কাড়ছেন। সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানি দাবি করেছেন, মালাইকা বিচ্ছেদের আগে প্রচারের স্বার্থে কিছু তথ্য ভুলভাবে তুলে ধরেছিলেন। এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে ফিরে দেখা যাক মালাইকা ও আরবাজের সম্পর্কের ধাপগুলো।
প্রেম, বিয়ে এবং সংসার
মালাইকা ও আরবাজের প্রেম বলিউডের মঞ্চে শুরু হয়। দীর্ঘ বন্ধুত্বের পর তারা ১৯৯৮ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মালাইকা তখন তরুণ, ফ্যাশন ও সিনেমাজগতের আলোচিত মুখ। আরবাজ তখন ইতিমধ্যেই সফল অভিনেতা ও প্রযোজক। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে আসে এক পুত্র, আরহান খান।
দাম্পত্য জীবনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
| বিষয় |
তথ্য |
| বিবাহের সাল |
১৯৯৮ |
| সন্তান |
আরহান খান |
| দাম্পত্যকাল |
১৯ বছর |
| সম্পর্কের ধরণ |
প্রেম থেকে বিবাহ |
বিচ্ছেদের কারণ
বিচ্ছেদ কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত ছিল না। মালাইকা এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমরা অনেক কিছু বিবেচনা করেছি—পেশা, পরিবার—শেষ পর্যন্ত বুঝলাম আমরা একে অপরকে সুখী রাখতে পারছি না।” তিনি আরও বলেন, “মাথা ঠান্ডা করে আমরা বুঝলাম আলাদা হওয়াই ভালো, কারণ একসাথে থাকলে একে অপরের বিরক্তি বাড়বে।”
মালাইকা স্বীকার করেছেন, সময়ের সঙ্গে দুজনই পরিবর্তিত হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি নিজেই বদলে গিয়েছিলাম। যেখানে আগের জীবনে কিছুই স্বাভাবিক মনে হত, এখন সেই অনুভূতি জন্ম নিয়েছে যে আমার নিজের সুখ ও মানসিক শান্তি গুরুত্বপূর্ণ।”
আরবাজের দৃষ্টিভঙ্গি
আরবাজও মানসিকভাবে বিচ্ছেদকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, “বিচ্ছেদ মানেই ঘৃণা নয়। আমরা একে অপরকে অপছন্দ করি না। আমরা পরিণত মানুষ। বিশেষত আমাদের ছেলের জন্য আমরা শ্রদ্ধা বজায় রেখেছি।”
সমাজ ও সমালোচনা
মালাইকা উল্লেখ করেছেন যে সমাজ, বন্ধু ও আত্মীয়দের পক্ষ থেকে তিনি সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি বলেন, “নারীদের ক্ষেত্রে বিচ্ছেদকে দ্বিমুখী মানদণ্ডে বিচার করা হয়। নিজের সুখ না থাকলে অন্যকে সুখী রাখা সম্ভব নয়।”
বিচ্ছেদের পর জীবন
বিচ্ছেদের পরও মালাইকা ও আরবাজ একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছেন। তারা সন্তানের জন্য আলাদা সময় দিয়েছেন। মালাইকা পরবর্তী সময়ে অর্জুন কাপুরের সঙ্গে প্রেম করেছিলেন, যা ভেঙে যায়। আরবাজ ২০২৩ সালে মেকআপ আর্টিস্ট সুরা খানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং গত বছর তাঁদের প্রথম সন্তানের জন্ম হয়।
বিচ্ছেদের পরবর্তী সম্পর্কের সারসংক্ষেপ:
| ব্যক্তি |
পরবর্তী সম্পর্ক |
মন্তব্য |
| মালাইকা অরোরা |
অর্জুন কাপুর |
সম্পর্ক ভেঙেছে |
| আরবাজ খান |
সুরা খান |
বিবাহ, প্রথম সন্তান জন্ম |
মালাইকার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, সম্পর্কের সমাপ্তি প্রাকৃতিক ও পরিপক্ক সিদ্ধান্ত ছিল। আজও তারা নিজেদের সন্তান ও ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি দায়িত্বশীল।
এই বিচ্ছেদের গল্প বলিউডে সম্পর্ক, সামাজিক মনোভাব এবং ব্যক্তিগত সুখের মধ্যে সংবেদনশীল ভারসাম্যের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।