খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
হবিগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব মাহদী হাসানের গ্রেপ্তারের সংবাদ রাজধানীতে পৌঁছানোর পরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী। এই অতর্কিত অবরোধের ফলে রাজধানীর অন্যতম প্রধান এই মোড় দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। রাত বাড়ার সাথে সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকা থেকে শত শত শিক্ষার্থী মিছিলে মিছিলে শাহবাগে এসে জড়ো হতে থাকেন, যা পুরো এলাকায় এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
অবরোধস্থলে সমবেত শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত জোরালো কণ্ঠে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন। ‘গোলামি না আজাদী, আজাদী আজাদী’, ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, মাহদী ভাইয়ের মুক্তি চাই’, এবং ‘দাসত্ব না বিপ্লব, বিপ্লব বিপ্লব’—এমন সব স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে শাহবাগ চত্বর। আন্দোলনকারীদের ভাষ্যমতে, জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারির যোদ্ধাদের দমন করার এক অশুভ পায়তারা শুরু করেছে প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা বিগত সরকারের অনুসারীরা। তারা দাবি করেন, মাহদী হাসানকে যে প্রক্রিয়ায় ও যে অস্পষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হবিগঞ্জ পুলিশ মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করে। মূলত গত শুক্রবার শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির সঙ্গে একটি উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার জেরে তাকে আটক করা হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে শাহবাগে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, ওসির সাথে মাহদীর কথপোকথনের একটি আংশিক ভিডিও প্রচার করে তাকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মাহদী হাসানকে নিঃশর্ত মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে না এবং প্রয়োজনে আন্দোলনের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হবে।
শাহবাগ অবরোধ ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয়ের নাম | সময় ও স্থান | মূল প্রেক্ষাপট |
|---|---|---|
| আটক অভিযান | শনিবার সন্ধ্যা ৭:৩০, হবিগঞ্জ | মাহদী হাসানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। |
| অবরোধের সূচনা | শনিবার রাত ১০:৩০, শাহবাগ | রাজধানীর মূল সড়কে শিক্ষার্থীদের অবস্থান। |
| আন্দোলনকারী | শাহবাগ চত্বর, ঢাকা | বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মী। |
| স্লোগান ও দাবি | চলমান | মাহদীর মুক্তি এবং বিপ্লবীদের হেনস্তা বন্ধ। |
| ট্রাফিক পরিস্থিতি | শনিবার দিবাগত রাত | চারদিকের রাস্তায় তীব্র যানজট ও অচলাবস্থা। |
শাহবাগে অবস্থানরত সমন্বয়করা জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার ও প্রশাসন জুলাই বিপ্লবের ফসল। অথচ সেই প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা, যারা বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন সুবিধাভোগী ছিলেন, তারা এখনও পুরনো কায়দায় ছাত্রদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা মানে পুরো ছাত্র সমাজকে চ্যালেঞ্জ করা। গভীর রাতেও শাহবাগ মোড়ে শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তারা শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে ধৈর্যশীল ভূমিকা পালন করছেন।
এদিকে হবিগঞ্জেও মাহদীর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। রাজধানীর এই অবরোধ কর্মসূচি জেলা পর্যায়ের আন্দোলনকে আরও সংহত করেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, যদি আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত না আসে, তবে আগামীকাল থেকে দেশের প্রতিটি জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। শাহবাগের এই রাজপথ অবরোধ কেবল একজন নেতার মুক্তির দাবি নয়, বরং ছাত্র সমাজের মর্যাদার লড়াই হিসেবে রূপ নিয়েছে।