খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মো. সিয়াম (১৯) তার মা নাসিমা আক্তারকে হত্যার করেছে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে সিয়াম বলেন, ‘আমার মা আমাকে অনেক আদর করতো, কোথাও যেতে দিতো না। তাই এই জেদ থেকে মেরে ফেলি।’
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসমা জাহান নিপার আদালতে সিয়াম এই জবানবন্দি দেন।
ঘাতক সিয়াম বলেন, ‘ঘরে আমি আর মা ছিলাম। মা ঘুমিয়ে ছিলো, তখন আমি ছেহাইট দিয়ে আঘাত করি। কিন্তু মা মরেনি। পরে বটি-দা দিয়ে কোপ দেই।’
ঘটনার পর সিয়াম তার মায়ের পাশে বসে বিলাপ করতে থাকে এবং জমি নিয়ে বিরোধে স্বজনরা হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করে। এক পর্যায়ে তার সাত বছরের শিশু ভাগিনা ফারুক জানিয়ে দেয়, তার মামা সিয়াম তার নানীকে হত্যা করেছে।
শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে শয়ন কক্ষের বিছানাতে নাসিমা আক্তারের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে ছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ সিয়ামকে আটক করলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। হত্যাকাণ্ডের শিকার নাসিমা আনন্দপুর গ্রামের মিজান মোল্লার স্ত্রী। তার মরদেহের ময়নাতদন্ত জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন হয়।
এ ঘটনায় মিজান মোল্লা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার মুসা মিয়া বলেন, ‘ওই নারীর স্বামী শুক্রবার ভোরে নামাজ পড়তে মসজিদে যান। ফিরে এসে দেখেন, বিছানাতেই নাসিমা আক্তারের মরদেহ পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশ আসে। পরে জানা যায়, ছেলে সিয়াম তার মাকে হত্যা করেছে। সিয়াম মানসিক প্রতিবন্ধী। সে প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতো। তাকে বারবার ফিরিয়ে আনার ক্ষোভ থেকে মাকে সে হত্যা করেছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।’
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমিউদ্দিন বলেন, ‘পুলিশের কাছে সিয়াম হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে এবং পরে সে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।’
খবরওয়ালা/ এমবি