খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
মিয়ানমারে সামরিক জান্তা-বিরোধী দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের জেরে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় চিন রাজ্য থেকে হাজার হাজার শরণার্থী পালিয়ে প্রতিবেশী ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরামে আশ্রয় নিয়েছেন। চলমান সংঘর্ষের ফলে বিপন্ন মানুষজন ২ জুলাই থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ শুরু করেন বলে নিশ্চিত করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
রয়টার্স জানিয়েছে, চিন ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (সিএনডিএফ) ও চিনল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্স-হুয়ালংরাম (সিডিএফ-এইচ) নামের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে কৌশলগত এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই লড়াই শুরু হয়। সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রতিদিন শরণার্থীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
মিজোরামের চাম্পাই জেলার জোখাওথার ও সাইখুমফাই—এই দুটি সীমান্ত গ্রামে রোববার রাত পর্যন্ত ৩ হাজার ৯৮০ জন শরণার্থীর অবস্থান নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।
তবে মিজোরামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে সাপদাঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘চিন রাজ্যের সংঘর্ষ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। মানবিক বিবেচনায় আমরা শরণার্থীদের পানি, খাবার ও আশ্রয় দিচ্ছি।’
মিজোরাম ও মিয়ানমারের চিন রাজ্যের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং দুই এলাকার জনগণের মধ্যে গভীর জাতিগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। ২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিজোরাম রাজ্য বিপুলসংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে।
ভারতের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এবং তা সীমান্তবর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় আরও বেশি সংখ্যক মানুষ নিরাপত্তার খোঁজে ভারতে প্রবেশ করছেন। শরণার্থীদের সংখ্যা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে এবং পরিস্থিতি গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মিয়ানমার সামরিক সরকারের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
খবরওয়ালা/এন