খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
রাজবাড়ীতে যুবকদের মিষ্টি কথার ফাঁদে ফেলে তুরস্ক নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছেন রহিম প্রামাণিক ওরফে আকাশ মোল্লা নামের এক যুবক।
জানা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের বারবাকপুর গ্রামে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে থাকতে শুরু করেন ওই প্রতারক রহিম প্রামাণিক ওরফে আকাশ মোল্লা নামের যুবক। ওই গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের যুবকদের ফাঁদে ফেলে তুরস্ক নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি হাতিয়ে নেন প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। এরপর সুযোগ বুঝে পালিয়ে যান তিনি।
প্রতারণার শিকার হয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পুলিশের।
জানা গেছে, চার মাস আগে নিজেকে তুরস্ক প্রবাসী পরিচয় দিয়ে বারবাকপুর গ্রামের আলতাফ শেখের মেয়ে তাসলিমা বেগমকে বিয়ে করে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস শুরু করেন প্রতারক রহিম প্রামাণিক ওরফে আকাশ মোল্লা। পরে ওই এলাকার যুবকদের মিষ্টি কথার ফাঁদে ফেলে তুরস্ক নেওয়ার প্রলোভন দেখান তিনি। তুরস্ক যাওয়ার আশায় বারোবাকপুর, পশ্চিম মুলঘর ও লক্ষীনারায়ণপুর গ্রামের ১০ যুবক তার হাতে তুলে দেন প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। কথা ছিল ১৭ জুন তাদের তুরস্ক নিয়ে যাওয়া হবে। তবে গত ১ জুন সকাল থেকেই লাপাত্তা ওই প্রতারক। বন্ধ রয়েছে তার মোবাইল নম্বরটিও।
ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি ঢাকার একটি জেনারেটর কোম্পানিতে মিস্ত্রী হিসেবে কাজ করি। দুই মাস আগে আকাশ মোল্লার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। সে আমাকে বলে যে, সে তুরস্কে ভালো বেতনে চাকরি করে। ১০ লাখ টাকা দিলে সে আমাকেও তুরস্কে ভালো বেতনে চাকরির ব্যবস্থা করে দেবে। তবে প্রথমেই পুরো টাকা দিতে হবে না। প্রথমে ৪ লাখ টাকা দিলেই সে আমাকে তুরস্কে নিয়ে যাবে। বাকি টাকা তুরস্কে গিয়ে দিলেই হবে। আমি তার কথায় বিশ্বাস করে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তাকে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা দিয়েছি। এরমধ্যে সে ফরিদপুর নিয়ে আমার মেডিকেল করেছে। আগামী ১৭ জুন আমাকে তুরস্কে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্ত ১ জুন সকালে সে শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়েছে। তার মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে। এখন বুঝতে পারছি সে আমাকে নিয়ে ভুয়া মেডিকেল করিয়েছিল।
অটোচালক জুলহাস বলেন, আকাশ মোল্লা আমাকে তুরস্ক নেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছে। আমি একেবারে পথে বসে গেছি।
খবরওয়ালা/ এমএজেড