খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
আগামী ৩০ জুন হাসানুল হক ইনু-কে ঘিরে আলোচিত মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। এ রায়কে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষের মধ্যে নানা আলোচনা ও উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি যুদ্ধ ছিল না; এটি ছিল একটি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম, স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই এবং বাঙালির আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। সেই ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা, সংগঠক, রাজনৈতিক কর্মী ও সংগ্রামী মানুষ, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে বসবাস করছি।
হাসানুল হক ইনু দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং প্রগতিশীল রাজনীতির পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে দেশবাসী তাঁর সমর্থকেরা মনে করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তাঁর অবদান এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তাঁকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি সুপরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের মতো মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিচার প্রক্রিয়া যেন নিরপেক্ষ, প্রমাণনির্ভর এবং ন্যায়সংগত হয়— এটাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল প্রত্যাশা।
আমরা চাই না দেশের ইতিহাসের কোনো গৌরবময় অধ্যায় প্রশ্নবিদ্ধ হোক। আমরা চাই না মুক্তিযুদ্ধের অবদান, ত্যাগ এবং সংগ্রামের ইতিহাস কোনোভাবেই অবমূল্যায়িত হোক। একই সঙ্গে আমরা বিশ্বাস করি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সত্য আরও সুস্পষ্টভাবে সামনে আসবে এবং রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
আজ যখন মুক্তিযুদ্ধের অনেক বীর সৈনিক, সংগঠক ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী আমাদের মাঝে নেই, তখন জীবিত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। তাঁদের অবদান যথাযথ মর্যাদায় মূল্যায়ন করা এবং তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক কর্তব্য।
মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ নয়; এটি সমগ্র জাতির অর্জন। তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমাদের সবার অবস্থান হওয়া উচিত সুস্পষ্ট ও দায়িত্বশীল।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ হোক ন্যায়, মানবিকতা, গণতন্ত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আলোকিত। আমরা প্রত্যাশা করি, যে কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত হবে আইন, প্রমাণ এবং ন্যায়বোধের ভিত্তিতে; যাতে ইতিহাস, রাষ্ট্র এবং জনগণের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কোনো আপস নয়।
ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও ইতিহাসের মর্যাদা অটুট থাকুক।