খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে উদ্ধার করা খণ্ডিত ও বিকৃত মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিহত ব্যক্তির নাম মো. মোকারম মিয়া, যিনি একজন সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন। সোমবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে এসে তাঁর মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো শনাক্ত করেন এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুঝে নেন তাঁর চাচাতো ভাই রিফাত।
নিহত মোকারম মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার তালশহর গ্রামের সোহরাব মিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মোকারম ছিলেন সবার বড়। তিনি বিবাহিত এবং বায়জিদ ও মোজাহিদ নামে তাঁর দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মোকারম মিয়া বিগত প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। গত ১৩ মে বিকেলে তাঁর স্ত্রী জোনাকি বেগমের সঙ্গে ইমো (imo) অ্যাপের মাধ্যমে মোকারমের সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। তবে সেই কথোপকথনের সময় তিনি নিজের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাননি। ওই যোগাযোগের পর থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যায়।
পরবর্তীকালে, ১৪ মে সৌদি আরবে অবস্থানরত মোকারমের এক সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর পরিবার। ওই সহকর্মী জানান যে, ১৩ মে দিবাগত রাতেই মোকারম বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব ত্যাগ করেন। দেশান্তরের পূর্বে তিনি তাঁর কিছু ব্যক্তিগত মালামাল ওই সহকর্মীর নিকট গচ্ছিত রেখে গিয়েছিলেন। এর বাইরে মোকারমের বাংলাদেশে আগমন বা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে পরিবারের কাছে আর কোনো পূর্ব তথ্য ছিল না।
রোববার রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে মোকারমের পরিবারকে জানানো হয় যে, তাঁর মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুলিশ প্রাথমিকভাবে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়।
পুলিশের প্রদত্ত তথ্য বিবরণী অনুযায়ী, অত্যন্ত নৃশংসভাবে এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে এবং নিহতের শরীরের বিভিন্ন অংশ পৃথক করে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা হয়েছিল। নিচে মরদেহ উদ্ধারের স্থান ও সময়ক্রম সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| উদ্ধারকৃত অংশ | উদ্ধারের স্থান | উদ্ধারের সময় | প্যাকেজিং অবস্থা |
| মাথাবিহীন খণ্ডিত দেহের ৭টি অংশ | মান্ডা এলাকা, মুগদা, ঢাকা | রোববার (দিনের বেলা) | পলিথিনে মোড়ানো |
| বিচ্ছিন্ন কাটা মাথা | মানিকনগর এলাকা, ঢাকা | রোববার (দিবাগত রাত) | পলিথিনে মোড়ানো |
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রোববার দিনের বেলা মুগদার মান্ডা এলাকা থেকে প্রথমে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাথাবিহীন খণ্ডিত মরদেহের সাতটি অংশ উদ্ধার করা হয়। এরপর তদন্তের ধারাবাহিকতায় ওই দিনই গভীর রাতে মানিকনগর এলাকা থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় নিহতের বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশি তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।