বিশ্বজুড়ে এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। তাঁদের পাঠানো প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিস্তার, আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে প্রতিদিনই মুদ্রার বিনিময় হারে ওঠানামা দেখা যায়। ফলে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং প্রবাসী পরিবারের জন্য নিয়মিত মুদ্রার হালনাগাদ হার জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
রোববার, ২১ জুন ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নিম্নরূপভাবে নির্ধারিত হয়েছে। বাজারভিত্তিক চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে এসব হার কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
মুদ্রার বিনিময় হার (২১ জুন ২০২৬)
মুদ্রা
ক্রয় (টাকা)
বিক্রয় (টাকা)
ডলার
১২২.৭৫
১২২.৭৫
ইউরো
১৪০.৭৬
১৪০.৭৯
পাউন্ড
১৬২.৪২
১৬২.৪৫
রুপি
১.৩০
১.৩০
ইউয়ান
১৮.০৯
১৮.০৯
ইয়েন
০.৭৬
০.৭৬
অস্ট্রেলীয় ডলার
৮৬.০৬
৮৬.১০
সিঙ্গাপুরি ডলার
৯৪.৯৪
৯৫.১৪
বিশ্লেষণে দেখা যায়, উন্নত অর্থনীতির মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার তুলনামূলকভাবে বেশি ওঠানামার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ও ব্রিটিশ মুদ্রার ক্ষেত্রে টাকার মান তুলনামূলকভাবে দুর্বল অবস্থানে থাকায় প্রবাসী আয় ও আন্তর্জাতিক লেনদেনে এর প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
ডলার ও ইউরোর মতো প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার দেশের আমদানি ব্যয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জ্বালানি, শিল্প কাঁচামাল এবং প্রযুক্তি পণ্যের আমদানি ব্যয় এসব হারের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। অন্যদিকে, রুপি, ইউয়ান ও ইয়েনের মতো আঞ্চলিক মুদ্রার বিনিময় হার দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করে।
প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে স্থিতিশীল বিনিময় হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও পারিবারিক ব্যয়ে বড় ভূমিকা রাখে। বিনিময় হার অস্থিতিশীল হলে প্রবাসী আয়ের প্রকৃত মূল্য কমে যেতে পারে, যা সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে প্রভাব ফেলে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক সুদের হার পরিবর্তন এবং বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি এসব হার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। তাই নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য জানা শুধু ব্যবসায়ীদের জন্য নয়, সাধারণ নাগরিকদের জন্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সার্বিকভাবে বলা যায়, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈদেশিক বাণিজ্যের গতিপ্রবাহ বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে কাজ করে।