খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৪ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বুধবার (৪ মার্চ) ভোররাত প্রায় ৩টার দিকে হলদিয়া ইউনিয়নের সাতঘরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত দুই যুবক হলেন গোয়ালিমান্দ্রা এলাকার বেদেপল্লীর ফরহাদ মিয়ার ছেলে সাগর (৩০) এবং মোহাম্মদ শহিদুলের ছেলে ছানারুল (৩০)। স্থানীয়দের দাবি, কমিউনিটি ক্লিনিকের বৈদ্যুতিক তার চুরির সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। এরপর ক্ষুব্ধ জনতা তাদের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় দুইজনকে উদ্ধার করে লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থল ও প্রেক্ষাপটের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা | চুরির অভিযোগে গণপিটুনি |
| স্থান | সাতঘরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক, হলদিয়া ইউনিয়ন |
| উপজেলা | লৌহজং |
| জেলা | মুন্সীগঞ্জ |
| সময় | ৪ মার্চ, ভোর ৩টা |
| নিহত | সাগর (৩০), ছানারুল (৩০) |
| গ্রেপ্তার | ৩ জন |
| তদন্ত | চলমান |
স্থানীয়দের আরও দাবি, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে একই ইউনিয়নের সাতঘরিয়া এলাকায় একটি খামার থেকে লক্ষাধিক টাকার ছাগল চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় নিহত দুই যুবক জড়িত ছিলেন বলে এলাকায় গুঞ্জন ছিল। ভোরে কমিউনিটি ক্লিনিকে চুরি করতে গেলে স্থানীয়রা তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে আটক করেন। এরপর উত্তেজিত জনতার হামলায় পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়।
এ বিষয়ে লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, “ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়। আহত দুইজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। গণপিটুনি বা জনতার হাতে বিচার ব্যবস্থা সমাজে ভয়াবহ অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, যা সামাজিক সচেতনতা ও আইনি কঠোরতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় দুই পরিবারের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর মাঝেও সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক ও অনুশোচনা। সচেতন মহল মনে করছে, অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা এবং ধৈর্যশীল আচরণ অত্যন্ত জরুরি। আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা রোধে সামাজিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে তারা মত প্রকাশ করেছেন।