খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
মুরগি চুরি নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধকে কেন্দ্র করে বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় আহত এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় এর আগে আরও একজন নিহত হয়েছিলেন। জোড়া হত্যাকাণ্ডে এলাকায় এখন উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নিহত স্বাধীন ইসলাম (১৭) স্থানীয় রামচন্দ্রপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এর আগে গত ৯ মে রাতে স্বাধীনের অনুসারীদের ধারালো অস্ত্রের কোপে প্রাণ হারান প্রতিপক্ষ দলের সদস্য তরিকুল ইসলাম ভুট্টো (৫০)। তিনি স্বাধীন ইসলামের মামাতো ভাই ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গাবতলী দুর্গাহাটার কিত্তনীয়া গ্রামে চলতি বছরের মে মাসে ৪২টি মুরগি চুরির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
মুরগির খামার মালিক জহুরুল ও খায়রুলদের সঙ্গে স্বাধীনদের দলের সদস্যদের প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে মামলা হয় এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে এই বিরোধের জেরে স্বাধীন ও তার সহযোগীরা প্রথমে খামার মালিক খায়রুল এবং তার দুই ভাইকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ মে খায়রুল ও তার সহযোগীরা স্বাধীনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে।
এরপর একই দিন সন্ধ্যায় দুর্গাহাটার রামচন্দ্রপুর বাজার থেকে ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন ভুট্টো। কীর্তনীয়া বাজারে স্বাধীনের অনুসারীরা তাঁকে একা পেয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ভুট্টো হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হওয়ায় স্বাধীন ইসলামের পরিবার বর্তমানে পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাদের দাবি, এটি শুধু মুরগি চুরির বিরোধ নয়, জমিজমা নিয়ে পুরনো বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে দুজনের প্রাণহানি হয়েছে।
বগুড়া ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার জানান, নিহত স্বাধীন ইসলামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়াও অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন