খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
সুদানের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মধ্যে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর মোঃ সবুজ মিয়া। মৃত্যুর খবর পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গেই পলাশবাড়ী উপজেলার ছোট ভগবানপুর গ্রামে নেমেছে শোকের ছায়া। পরিবার, স্বজন ও গ্রামের মানুষরা দুঃখে অভিভূত।
নিহত সবুজ মিয়া ছিলেন মহদিপুর ইউনিয়নের ছোট ভগবানপুর গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান ও ছকিনা বেগমের ছেলে। মাত্র দুই বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে দরিদ্র পরিবেশে বেড়ে ওঠেন তিনি। একসময়ের সেই অভাব অনটন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই তিনি নিজের জীবন গড়ে তুলেছিলেন।
গত ৭ নভেম্বর, এক মাস সাত দিন আগে, সবুজ মিয়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের জন্য সুদানে যান। সেখানে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অসামরিক লন্ড্রি কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মৃত্যুর খবরে তার মা ছকিনা বেগম এবং স্ত্রী নুপুর আক্তার বারবার শোকাহত হয়ে অচেতন হয়ে যাচ্ছিলেন। স্ত্রীর কান্নাজড়িত কণ্ঠে একবার ফোনে সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের স্মৃতি তুলে ধরেন, “সুদানে যাওয়ার পর গত শনিবার বিকেলে কয়েক মিনিটের জন্য কথা হয়েছিল। রাত ১২টার দিকে হঠাৎ খবর পাই—ও আর নেই।”
মায়ের কাঁদতে কাঁদতে বলার মতো ছিল, “আমার একমাত্র বুকের ধন ছিল সে। এখন যেদিনের খোঁজ নিবে সে কে? ওর বাবার লাশ চাই। বাড়িতে আসলে হয়তো তার আত্মা শান্তি পাবে।”
গ্রামের মানুষদের জন্য সবুজ ছিলেন উদার, পরিশ্রমী এবং দায়িত্বশীল যুবক। তিনি ছিলেন পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর অকালমৃত্যুর ফলে পরিবার এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। পারিবারিক সূত্র জানায়, সবুজ ছিলেন দুই ভাইবোনের ছোট। বড় বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় মা ও স্ত্রীকে নিয়েই তিনি বাড়িতে থাকতেন। তিনি ২০২৩ সালের ৭ মার্চ নাটোর জেলার নুপুর আক্তারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে এখনও সন্তান ছিল না।
সবুজ মিয়া প্রায় ১১ বছর আগে প্রতিবেশী এক চাচার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অসামরিক ধুপি হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি লন্ড্রি কর্মচারীর পদে উন্নীত হন। তিন মাস আগে ছুটিতে বাড়ি এসে আবার কর্মস্থলে যোগ দেন।
পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ জানান, নিহতের পরিবারকে সরকারি সহযোগিতা দেওয়া হবে এবং খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সুদানের আবেই অঞ্চলের কাদুগলি লজিস্টিক বেসে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হন।
| বিষয় | তথ্য |
| নাম | মোঃ সবুজ মিয়া |
| জন্মস্থান | পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা |
| মাতাপিতা | হাবিবুর রহমান (পিতা), ছকিনা বেগম (মাতা) |
| স্ত্রীর নাম | নুপুর আক্তার |
| বিবাহ | ৭ মার্চ ২০২৩, নাটোর |
| কর্মজীবন | বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অসামরিক লন্ড্রি কর্মচারী (১১ বছর) |
| সুদানে যাত্রা | ৭ নভেম্বর ২০২৫ |
| নিহতের তারিখ | ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ |
| স্থান | কাদুগলি লজিস্টিক বেস, আবেই, সুদান |
| হত্যার ধরন | ড্রোন হামলা, সশস্ত্র গোষ্ঠী দ্বারা |