খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় বেরিবাঁধে সংঘটিত আসাদুল ওরফে ‘লম্বু আসাদুল’ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে স্থানীয়ভাবে পরিচিত সাবেক ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা আক্তার ও তার সহযোগী মুন্না রয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া আরও দুইজন—আরিফ ও বকুল—এই ঘটনায় আটক হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতের দিকে ঢাকার নবাবগঞ্জ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্য ও সন্দেহভাজনদের গতিবিধি অনুসরণ করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. জুয়েল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি প্রাথমিক পর্যায়ে আটককৃতদের নাম প্রকাশে কিছুটা সংযত ছিলেন।
এর আগে বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের বেরিবাঁধ এলাকার সাদেক খান ইটখোলা সংলগ্ন স্থানে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে আসাদুল ওরফে লম্বু আসাদুলকে একদল দুর্বৃত্ত ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দীর্ঘদিনের বিরোধ ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনার পরপরই মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ও তেজগাঁও বিভাগীয় গোয়েন্দা দল যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে নবাবগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদপুরের স্থানীয় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ছোটখাটো বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নিচে মামলার বর্তমান পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | বেরিবাঁধ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা |
| হত্যার সময় | বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিট |
| নিহত | আসাদুল ওরফে লম্বু আসাদুল |
| হত্যার কারণ (প্রাথমিক) | পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিরোধ |
| আটক | ৪ জন (আক্তার, মুন্না, আরিফ, বকুল) |
| আটক স্থান | নবাবগঞ্জ, ঢাকা |
| তদন্ত সংস্থা | মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ও তেজগাঁও বিভাগ |
তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. জুয়েল রানা বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে খুব দ্রুতই পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।”
রাজধানীতে ধারাবাহিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও জড়িতদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে।
সব মিলিয়ে, মোহাম্মদপুরের এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলো