খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে আষাঢ় ১৪৩২ | ৩ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌরিদ আল মাসুদ রনি যেখানে অবস্থান করছেন গোপন সূত্রে এই খবর পেয়ে তাকে ধরতে একটি ভবন ঘেরাও করেছিলেন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তল্লাশি শুরু করে। তখনই যুবদলের এক নেতাকে ফোন করে তৌরিদ আল মাসুদ রনি বলেছেন, ‘এত কষ্ট করছেন ভাই, আমি তো আপনাদের থেকে অনেক দূরে। আমাকে খুঁজে লাভ নেই, পাবেন না।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ই আগষ্ট আওয়ামী সরকারের পতনের দিনই আত্মগোপনে চলে যান যুবলীগ নেতা রনি। তিনি ইতিমধ্যে দেশ ত্যাগও করেছেন। তবে আজ বুধবার দুপুরে নগরের পদ্মা পারিজাত এলাকার একটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্টে তাঁর অবস্থানের খবরে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা পুরো ভবন ঘেরাও করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশের একটি দলও ভবনটিতে গিয়ে তল্লাশি শুরু করে।
ওই সময় জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল সরকার ডিকোকে ফোন করেন যুবলীগ নেতা রনি। তিনি বলেন, ‘ডিকো ভাই, এত কষ্ট করে আপনারা অভিযান করছেন কিন্তু আমি তো আপনাদের থেকে অনেক দূরে। আমাকে খুঁজে লাভ নেই, পাবেন না। সময়মতো আমি নিজেই আত্মসমর্পণ করব, ধরা দিব।’
জবাবে ডিকো বলেন, ‘ আপনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। নিজের দোষ স্বীকার করেন। দোয়া করি আমরা আপনার জন্য।’
সময় হলেই আত্মসমর্পণ করবেন বলে তখন জানান রনি। এ সময় ডিকো জানতে চান, ‘সিটি করপোরেশনের অস্ত্র আপনার ছিল নাকি মেয়র (এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন) সাহেবের ছিল? ভিডিও ফুটেজ আছে আপনার।’ জবাবে রনি বলেন, ‘ভাই, আমার হাতে অস্ত্র কোথায় দেখেছেন? ভিডিওতে দেখান। ছবিতে দেখান। আমার হাতে অস্ত্র নাই।’ ডিকো বলেন, ‘রাজশাহীতে অস্ত্রের রাজনীতি শুরুই করেছেন আপনি, ভাইয়া।’
রনি বলেন, ‘এসব বাজে কথা।’ ডিকো বলেন, ‘ঠিক আছে। ওপরে আল্লাহ আছে। সত্য-মিথ্যা আল্লাহই জানে।’ রনি বলেন, ‘আমরা মুসলমান মরতে হবে। যদি অন্যায় করি, আল্লাহ বিচার করবে। ভালো থাকেন ভাই, ইনশা আল্লাহ দেখা হবে।’
রনির এই ফোনের পর শেষ হয় অভিযান। নেতা-কর্মীরাও ভবনের সামনে থেকে সরে আসেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল নেতা ডিকো বলেন, ‘এইমাত্র সে আমাকে ফোন করেছিল। যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারাও আছেন এখানে। বুঝতে পারলাম, এই বাড়িতে অভিযান হওয়াতে খুব ক ষ্ট পাচ্ছেন তিনি।’
ঘটনার পর সন্ধ্যায় যুবলীগ নেতা রনিকে তাঁর ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরেই পাওয়া গেছে। তিনি জানান, সরকার পতনের তিন-চার মাস পর দেশের বাইরে চলে গেছেন তিনি। রনি বলেন, ‘এরা কোনো দিন সামনে আসতেও সাহস পায়নি। এখন ফাঁকা মাঠে না জেনেশুনে অযথা একটি বাড়ি এভাবে ঘেরাও করেছে। তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন থাকতে পারে। দেশের মানুষ এখন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে পার্থক্য কি! তাদের এসব কর্মকাণ্ডের জন্য বুঝতে পারছে।’
রনি বলেন, ‘দেশে এখন সুবিচার নেই। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ও নেতা এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন যেদিন বলবেন, সেদিনই দেশে ফিরব। যদি কোনো অন্যায় করে থাকি, সুশাসন ফিরলে শাস্তি হবে। অল্প সময়ের মধ্যেই দেখা হবে সবার সঙ্গে ইনশাআল্লাহ।’
খবরওয়ালা/টিএস