খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫
ময়মনসিংহ নগরের টাউন হল এলাকায় জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী ও সাবেক বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদের পৈতৃক বাড়ি ‘সুন্দর মহলে’ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুরে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর কর্মীরা এই হামলা চালায়।
হামলাকারীরা বাড়ির নির্মাণাধীন স্থাপনা ও পুরোনো ভবনের ভেতরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ঘটনার সময় ‘কুটুম বাড়ি’ নামে রেস্তোরাঁ নির্মাণের কাজ চলছিল।
বাড়িটি সম্প্রতি রওশন এরশাদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ১২ বছরের জন্য ভাড়া নিয়েছেন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী বজলুর রহমান। ভাড়া নেওয়ার পর থেকে সেখানে নির্মাণকাজ শুরু হয়।

এর আগেও, গত ২৩ এপ্রিল বাড়ির সামনে মানববন্ধন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। তাঁরা সেখানে রেস্তোরাঁ না করে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ নির্মাণের দাবি জানান এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন।
তাঁদের অভিযোগ, এই দাবি উপেক্ষা করে বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণকাজ চলতে থাকায় আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে তাঁরা বিক্ষোভে অংশ নেন এবং ভাঙচুর করেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ময়মনসিংহ মহানগরের যুগ্ম সদস্যসচিব ওয়ালিদ আহমেদ বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার পেছনে রওশন এরশাদ বড় ভূমিকা রেখেছেন। এজন্য ৫ আগস্টের পর তাঁর পৈতৃক বাড়িটিকে ‘দালাল মহল’ ঘোষণা করা হয়। এখন সেখানে রেস্তোরাঁ করার চেষ্টা চলছে। আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি, স্মারকলিপি দিয়েছি। কাজ বন্ধ না হওয়ায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ভাঙচুর করেছেন।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওয়ালিদ আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল বাড়ির নির্মাণাধীন ইটের দেয়াল ভেঙে ফেলে। পরে পুরোনো ভবনের কক্ষগুলোতে ঢুকে ভেতরের আসবাব ভাঙচুর করে।

ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন রেস্তোরাঁ মালিক বজলুর রহমানের শ্যালক আহসানুল করীম। তিনি বলেন, ‘রওশন এরশাদের বাড়ি বলেই এটিকে ‘দালাল মহল’ বলে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ছাত্রদল থেকে বৈষম্যবিরোধী নেতা হওয়া ওয়ালিদ আহমেদের নেতৃত্বে এই হামলা হয়। হামলাকারীরা নির্মাণশ্রমিকদের সরঞ্জাম দিয়ে ভাঙচুর চালিয়ে সেগুলোও নিয়ে গেছে।’
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা আগে থেকেই বাড়িটিকে দালাল মহল হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের কারণে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই।’

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম বলেন, ‘বাড়িটি নিয়ে ছাত্রদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এজন্য সেখানে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ সমীচীন নয়। স্মারকলিপি পাওয়ার পর হয়তো ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছিল। তবে এখন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/এন