খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। নিজের নির্বাচনী কর্মী ও জিয়া পরিষদের স্থানীয় নেতা নৃশংসভাবে খুন হওয়ার পর চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন এই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যায় তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীনের কাছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। তবে আবেদনের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ বা সুরক্ষা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এই প্রার্থী।
নিরাপত্তা চাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে গত বুধবার রাতের এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনা। বুধবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সিংড়ার কলম ইউনিয়নের কুমারপাড়া কদমতলা এলাকায় দুর্বৃত্তরা জিয়া পরিষদের নেতা রেজাউল করিমকে একা পেয়ে অতর্কিত হামলা চালায় এবং অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করে। নিহত রেজাউল করিম আসন্ন নির্বাচনে আনোয়ার হোসেনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর নির্বাচনী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং এ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত কোনো অভিযুক্ত গ্রেফতার না হওয়ায় প্রার্থী নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
সিংড়া নির্বাচনী পরিস্থিতির বর্তমান চিত্র ও নিরাপত্তা চাহিদা:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য ও বর্তমান অবস্থা |
| আসন ও এলাকা | নাটোর-৩ (সিংড়া), কলম ইউনিয়ন। |
| ভুক্তভোগী কর্মী | রেজাউল করিম, স্থানীয় নেতা, জিয়া পরিষদ। |
| ঘটনার ধরণ | নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা। |
| নিরাপত্তা আবেদনকারী | আনোয়ার হোসেন (বিএনপি প্রার্থী)। |
| প্রশাসনের প্রাথমিক পদক্ষেপ | এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও গোয়েন্দা নজরদারি। |
| প্রার্থীর দাবি | ব্যক্তিগত গানম্যান বা সশস্ত্র পুলিশি নিরাপত্তা প্রহরী। |
| পুলিশের ভাষ্য | সভা-সমাবেশে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। |
আনোয়ার হোসেন জানান, “একজন সক্রিয় কর্মীকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার পর আমি স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাকে প্রতিদিন প্রচারণার কাজে দুর্গম গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় যেতে হচ্ছে। অথচ আবেদনের ২৪ ঘণ্টা পার হতে চললেও এখন পর্যন্ত আমাকে ব্যক্তিগত কোনো নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি।” অন্যদিকে, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আবেদনটি পাওয়ার পরপরই তা পুলিশ সুপারের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তারা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ইফতে খায়ের আলম বলেন, সিংড়া উপজেলার সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ইতিমধ্যে জোরদার করা হয়েছে। প্রার্থীর আবেদনটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং তিনি যেসব স্থানে গণসংযোগ বা সভা করছেন, সেখানে সাদা পোশাকের পুলিশ নিয়োজিত থাকছে। তবে সরাসরি কোনো ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রহরী বা সার্বক্ষণিক গানম্যান নিয়োগের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মূলত প্রটোকল ও সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাই করে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের অন্যতম পূর্বশর্ত। যখন কোনো প্রার্থীর প্রধান কর্মী বা সংগঠক হত্যার শিকার হন, তখন প্রার্থীর মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। নাটোর-৩ আসনের এই পরিস্থিতি ভোটারদের মধ্যেও এক ধরণের ভীতি তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে এবং সহিংসতা রোধে অবিলম্বে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং প্রার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। অন্যথায়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।