খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫
জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে বুধবার (২৮ মে) যা ঘটেছে, তাকে কি কেবল ‘সংঘর্ষ’ বললেই যথেষ্ট হবে? একদিকে চিকিৎসাধীন জুলাই অভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধারা, অন্যদিকে চিকিৎসক-কর্মচারীরা, আর তৃতীয় দিক থেকে সাধারণ রোগী—সব মিলে ত্রিমুখী লড়াই। লাঠি, স্লোগান, হাতাহাতি, অবরুদ্ধ পরিচালক—চোখের হাসপাতাল যেন আচমকাই রণক্ষেত্র।
সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনার শুরুটা ছিল বিষ খাওয়া চার আহতাকে ঘিরে। হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে কয়েক দফা বাগবিতণ্ডা, আত্মদাহের চেষ্টা, কর্মবিরতি—সব একসঙ্গে গড়ায় মারমুখী পরিবেশে।
হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসকের কক্ষেও হামলা চালানো হয়, ভাঙচুর হয় কক্ষ। একপর্যায়ে চিকিৎসক-নার্স-স্টাফরা আতঙ্কে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। রোগীরা তখন পড়েন চরম বিপাকে। অস্ত্রোপচার বন্ধ, চিকিৎসাসেবা বন্ধ, এমনকি ওষুধও মিলছে না বলে অভিযোগ।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত হাসপাতালের সব কার্যক্রম বন্ধ। ভর্তি রোগীদেরও স্বজনরা নিয়ে চলে গেছেন।
পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে ততক্ষণে কমপক্ষে ৫০ জন আহত, যাদের মধ্যে ১৫ জন চিকিৎসক-কর্মচারী এবং প্রায় ২০ জন জুলাই যোদ্ধা। একজন চিকিৎসকের ভাষায়, “জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা একটি রুমে অবরুদ্ধ ছিলাম। সেনাবাহিনীর সহায়তায় বের হতে পেরেছি।”
হাসপাতাল পরিচালক অধ্যাপক খায়ের আহমেদ চৌধুরী জানান, আহতদের উপদলীয় কোন্দল থেকেই মূলত এই হামলা ও বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত। “আমি দেড় ঘণ্টা রুমে অবরুদ্ধ ছিলাম। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় বের হই। আমার রুম ভাঙচুর করা হয়,” — বলেন তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, একাধিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়তা এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন এখন চিকিৎসা ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকট যেখানে নাগরিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়, সেখানে চক্ষু হাসপাতাল হয়ে উঠেছে এক অদ্ভুত ক্ষমতার লড়াইয়ের মঞ্চ।
একদল চোখ বাঁচাতে এসেছে, আরেকদল চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে—চিকিৎসাব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর!
খবরওয়ালা/ এমএজেড