খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে চমেকে ১৩ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এই কমিটিতে হাসিবুল হাবিব সভাপতি এবং শাফায়েত হোসেন শিশির সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তাদের। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্যাম্পাসে কোনো দৃশ্যমান রাজনৈতিক কার্যক্রম নেই, আর কেউ তা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট চমেক প্রশাসন এক প্রজ্ঞাপনে ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা নিষিদ্ধ করে। অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেনা আক্তারের স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২১ সালের ৩ মার্চ একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে ক্যাম্পাস ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব সভা-সমাবেশ, মিছিল, স্লোগান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।
পরে ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর নতুন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন আরেক প্রজ্ঞাপনে পুনরায় জানান, ক্যাম্পাস, ছাত্রাবাস ও তৎসংলগ্ন এলাকায় রাজনৈতিক পোস্টার, ব্যানার, দেয়ালিকা কিংবা সমাবেশের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে এবং তা সম্মান করে চলতে হবে।
এ বিষয়ে চমেক ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতি হাসিবুল হাবিব বলেন, চমেকে কাগজে-কলমে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও সব সংগঠনই সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ‘আমরা নিজেদের পরিচয়ে রাজনীতি করতে চাই। এটা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। ৫ আগস্টের পর ক্যাম্পাসগুলোতে ইতিবাচক রাজনীতি শুরু হয়েছে। চমেক খোলার পর আমরা অধ্যক্ষের কাছে রাজনীতি নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রত্যাহারের দাবি জানাব।’
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ। ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার খবর জানা গেছে, তবে তাদের প্রকাশ্য কার্যক্রম নেই। ‘যদি কেউ রাজনৈতিক কার্যক্রম চালায়, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/এন