খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৩ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর খিলক্ষেতে শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোরে একটি বহুতল হোটেলে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। খিলক্ষেত ওভারব্রিজের পাশে ১৪ তলা একটি পাঁচতারা হোটেলের নিচতলায় এসি মেরামতের সময় বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে চারজন কর্মী দগ্ধ হয়েছেন।
দগ্ধদের মধ্যে রয়েছে মো. মনসুর (৩২), মো. আব্দুল মতিন (৬৭), মো. মাহি (১৭) এবং মো. আব্দুল জলিল (৬৭)। ঘটনাস্থল থেকে তাদের সহকর্মীরা দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেছেন। ডাক্তারদের প্রাথমিক বরাত অনুযায়ী, আহতদের দগ্ধের অবস্থা গুরুতর হলেও স্থিতিশীল রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার সময় হোটেলের নিচতলায় মাত্র কয়েকজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিকটস্থ ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হোটেলের অন্যান্য অংশে বিস্তার রোধ করে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, হোটেলের বাকি কর্মী এবং অতিথিদের নিরাপদভাবে বাইরে নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুনের সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট ও পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকাকে এই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে ধরা যেতে পারে।
নিম্নে আহতদের তথ্য ও প্রাথমিক চিকিৎসার অবস্থা তুলে ধরা হলো:
| নাম | বয়স | অবস্থান | হাসপাতালে নেওয়ার সময় | দগ্ধের অবস্থা |
|---|---|---|---|---|
| মো. মনসুর | ৩২ | হোটেল স্টাফ | ভোর ৬:৩০ | গুরুতর কিন্তু স্থিতিশীল |
| মো. আব্দুল মতিন | ৬৭ | হোটেল স্টাফ | ভোর ৬:৪৫ | স্থিতিশীল, চিকিৎসাধীন |
| মো. মাহি | ১৭ | হোটেল স্টাফ | ভোর ৬:৫০ | মাঝারি দগ্ধ, পর্যবেক্ষণ |
| মো. আব্দুল জলিল | ৬৭ | হোটেল স্টাফ | ভোর ৭:০০ | গুরুতর, বিশেষ চিকিৎসা চলছে |
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা জানান, ভবনের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ও সেফটি প্রটোকল যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া ভবন মালিককে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথাযথ উন্নতি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগুনের শব্দ এবং ধোঁয়া দেখে আশপাশের এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা এড়ানো গেছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।