খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে মাঘ ১৪৩২ | ২৪ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক অপপ্রচার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, ভারতের সঙ্গে বিএনপির কোনো গোপন বা প্রকাশ্য চুক্তির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তিকর। শনিবার গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন এ অবস্থান স্পষ্ট করেন।
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতৃত্ব ভারতের সঙ্গে তিনটি চুক্তি করেছে—এমন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বক্তব্য রাখেন। এ প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, “একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা যদি এমন গুরুতর অভিযোগ তোলেন, তবে তার পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকা জরুরি। কিন্তু তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি, ভবিষ্যতেও পারবেন না। কারণ এ ধরনের দাবির ন্যূনতম বাস্তবতা বা সত্যতা নেই।” তিনি আরও বলেন, “এটি বিতর্ক সৃষ্টি ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপকৌশল, নতুবা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে করা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য।”
বিএনপির রাজনীতির মৌলিক দর্শন তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, “বিএনপির রাজনীতি মানেই বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল সর্বাগ্রে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জনগণের ক্ষমতায়নের রাজনীতি করে।” তাঁর ভাষায়, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা মানে ইতিবাচক রাজনীতি, অপপ্রচার বা কূটকৌশল নয়।
আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিএনপির অতীত অবস্থান স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তিস্তা ও পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি, সীমান্তে ফেলানি হত্যার প্রতিবাদে রাজপথে আন্দোলন—এসবই বিএনপির রাজনৈতিক ঐতিহ্যের অংশ। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নতজানু পররাষ্ট্রনীতির বিরোধিতা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সার্বভৌমত্বকেন্দ্রিক রাজনীতির ধারাবাহিকতাই বিএনপির শক্তি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়াতে বিএনপির উদ্যোগের কথাও জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ভোটারদের অভিযোগ গ্রহণ, নির্বাচনসংক্রান্ত আইন-বিধি সম্পর্কে তথ্য প্রদান এবং নাগরিক মতামত সংগ্রহে বিএনপি ইলেকশন হটলাইন ও হোয়াটসঅ্যাপ হটলাইন চালু করেছে। ইতিমধ্যে দেশজুড়ে বিপুল সাড়া পাওয়া গেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ব্যক্তি বা চক্র যদি এসব কার্ডের নামে অর্থ দাবি করে, তবে তা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও বিএনপির নীতিবিরোধী। বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বিনামূল্যে প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে এসব কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
শেষে তিনি বলেন, “অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি নয়, স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য।”
| বিষয় | বিএনপির বক্তব্য |
|---|---|
| ভারতের সঙ্গে চুক্তি | সম্পূর্ণ অপপ্রচার, কোনো প্রমাণ নেই |
| রাজনৈতিক দর্শন | বাংলাদেশপন্থি, সার্বভৌমত্ব ও জনক্ষমতায়ন |
| অতীত কর্মসূচি | তিস্তা-পদ্মা আন্দোলন, সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদ |
| নির্বাচন উদ্যোগ | ইলেকশন হটলাইন ও নাগরিক অংশগ্রহণ |
| ফ্যামিলি/কৃষক কার্ড | বিনামূল্যে, প্রতারণা হলে আইনি ব্যবস্থা |
এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি আবারও জানিয়ে দিল, অপপ্রচারের রাজনীতির বিপরীতে তারা স্বচ্ছ, গণতান্ত্রিক ও জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতিতেই অটল থাকতে চায়।