খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই ফয়সাল বাঁধনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অফিশিয়াল মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বেলা ১১টার দিকে আহত ফয়সাল বাঁধনকে হাসপাতালের ৫ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপর চিকিৎসকদের একটি দল তার শরীরে জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফয়সাল বাঁধনের পেট থেকে একটি গুলি সফলভাবে বের করা হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত গুলিটি কোনো পিস্তলের হতে পারে। অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় রয়েছেন বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই শাহ্ মখদুম থানা পুলিশ, মহানগর পুলিশ এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা ছায়ানীড় আবাসিক এলাকার ওই ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ওই পাঁচতলা ভবনের কক্ষটি থেকে অপরাধের সুনির্দিষ্ট আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেন।
অভিযান ও তল্লাশিকালে পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ওই বাসা থেকে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, তাজা গুলি, ব্যবহৃত গুলির খোসা, ককটেল সদৃশ কয়েকটি বস্তু এবং কিছু বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য উদ্ধার ও জব্দ করে। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং আইনি প্রক্রিয়ার কারণে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ধরন বা বিস্ফোরকের পরিমাণ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিংবা আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, যে পাঁচতলা ভবনে এই গুলির ঘটনাটি ঘটেছে, সেটির মালিক নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি সাঈদ আল মারজুখের বাবা। ভবনটির পঞ্চম তলার সামগ্রিক নির্মাণকাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে ভবনের পঞ্চম তলার ব্যবহার উপযোগী একটি কক্ষ রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক নিজের নামে ভাড়া নিয়েছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই কক্ষে মীর তারেক তার সহযোগীদের নিয়ে নিয়মিত বসতেন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। গুলিবিদ্ধ ফয়সাল বাঁধন ও মীর তারেককে প্রায়শই দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে একই মোটরসাইকেলে চলাচল করতে দেখা যেত। রোববার সকালে ফয়সাল বাঁধন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই মীর তারেকসহ ওই কক্ষে অবস্থানরত অন্য ব্যক্তিরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যান বলে জানা গেছে।
হত্যাকাণ্ডের চেষ্টা নাকি অন্য কোনো কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার পর বক্তব্য জানার জন্য ভবনের মালিকের ছেলে ও ছাত্রদল নেতা সাঈদ আল মারজুখের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি। অন্যদিকে, কক্ষের ভাড়াটিয়া ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মীর তারেকের মুঠোফোনটি ঘটনার পর থেকেই সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ফয়সাল বাঁধন ঠিক কীভাবে এবং কার গুলিতে আহত হয়েছেন, সে সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান এই বিষয়ে জানান, বিষয়টি বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে তদন্তাধীন থাকায় এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিক আলামত ও তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে পুলিশের ধারণা, ওই কক্ষটি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। আহত ফয়সাল বাঁধন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে এবং তার জবানবন্দি গ্রহণ করা সম্ভব হলে প্রকৃত ঘটনা ও আসল অপরাধীদের পরিচয় জানা যাবে। এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।