খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে পৌষ ১৪৩২ | ২৯ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে র্যাব-৫-এর একটি চৌকস দল। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চুনিয়াপাড়া গ্রামে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, বেশ কিছু পাইপগান এবং বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং জনমনে নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
র্যাব-৫, রাজশাহী সদর কম্পানির বিশেষ অপারেশন দলটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পৃথক তিনটি স্থানে এই অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো অত্যন্ত সুকৌশলে বিভিন্ন গোপন স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। র্যাব সূত্র জানায়, তানোরের চুনিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এন্তাজ আলীর বসতবাড়ির পশ্চিম পাশে গোয়ালঘরের পেছনে রান্নার লাকড়ির স্তূপের নিচে প্রথম অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া যায়। পরবর্তীতে একই এলাকার আব্দুস সোবাহান এবং জয়নাল নামের আরও দুই ব্যক্তির খড়ি রাখার ঘরের নিচে তল্লাশি চালিয়ে বাকি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তালিকার মধ্যে রয়েছে একটি অত্যাধুনিক কাঠের হাতলযুক্ত বিদেশি পিস্তল, যা দিয়ে যেকোনো বড় ধরনের নাশকতামূলক কাজ পরিচালনা করা সম্ভব ছিল। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে ৪টি দেশীয় তৈরি পাইপগান এবং অস্ত্র তৈরির আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ, যা ইঙ্গিত দেয় যে এলাকাটিতে অবৈধভাবে অস্ত্র তৈরির কোনো চক্র সক্রিয় থাকতে পারে।
| উদ্ধারকৃত সামগ্রীর নাম | পরিমাণ/বিবরণ |
|---|---|
| বিদেশি পিস্তল | ১টি (কাঠের হাতলযুক্ত) |
| পিস্তলের ম্যাগাজিন | ২টি (সিলভার রঙের খালি ম্যাগাজিন) |
| পিস্তলের তাজা গুলি | ৫ রাউন্ড |
| শটগানের কার্তুজ/গুলি | ১২টি |
| দেশীয় পাইপগান | ৪টি |
| চিকন পাইপ ও যন্ত্রাংশ | ৬টি (অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত) |
অভিযান শেষে র্যাবের কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেও এসব অস্ত্রের প্রকৃত মালিক বা কারা এগুলো সেখানে লুকিয়ে রেখেছে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গভীর রাতে এসব স্থানে অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা থাকতে পারে, তবে ভয়ের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান শাহীন এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত সকল আলামত বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে। এই অস্ত্রগুলো কোনো রাজনৈতিক সহিংসতা নাকি অপরাধী চক্রের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জন্য মজুদ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পলাতক অপরাধীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।