অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
রাজশাহীর পদ্মার চরে পাখির ছবি তুলতে গিয়ে এক যুগান্তকারী দৃশ্যের সাক্ষী হলেন আলোকচিত্রী ইমরুল কায়েস ও উম্মে খাদিজা ইভা। পাখি নয়, তাদের চোখে পড়ল এক মিঠাপানির কুমির— যে প্রজাতিকে ২০১৫ সালে আইইউসিএন বাংলাদেশ ‘বিলুপ্ত’ ঘোষণা করেছিল।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে দুপুরে ষাটবিঘা চরে গরু চরাতে গিয়ে প্রথম কুমিরটি দেখেন স্থানীয় রাজু আহাম্মেদ। তিনি জানান, কুমিরটি তখন পানি থেকে প্রায় তিন-চার হাত দূরে ছিল। ছবি তুলতে এগোতেই হঠাৎ পানিতে নেমে যায় প্রাণীটি। কিছুক্ষণ পর মুখ তুলে নিঃশ্বাস নিতে দেখা যায় তাকে।
রাজু সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি জানান বন বিভাগের কর্মী সোহেল রানাকে। এরপর খবর পৌঁছায় বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবিরের কাছে। তিনিই ফোন করে ঘটনাটি জানান আলোকচিত্রী ইমরুল কায়েসকে।
কায়েস ও খাদিজা রাজশাহী শহরের কাজীহাটা এলাকার বাসিন্দা। পদ্মা নদী তাদের পরিচিত প্রান্তর। সেদিন তারা মূলত লাল মুনিয়ার ছবি তুলতে বেরিয়েছিলেন।
খাদিজা ইভা জানান, রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে ঘাটের দোকানে বসেছিলাম। ঠিক তখনই বন বিভাগের ফোন এলো। ঘুম উড়ে গেল। কুমিরের খোঁজে বেরিয়ে পড়লাম।
সামনে ছিল কোমরসমান পানি। স্যান্ডেল খুলে, ক্যামেরা মাথার ওপরে তুলে পার হলেন দুজন। ভয় ছিল— পা পিছলে না যায়।
অনেকটা হাঁটার পর পৌঁছালেন ভারতের সীমান্তঘেঁষা রাজুর বাড়িতে। রাজুকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করলেন কুমির খোঁজা। তবে প্রথমে দেখা মিলল না। হতাশ হয়ে গাছতলায় বসে পড়েন খাদিজা।
ঠিক তখনই ইমরুল কায়েস ড্রোন উড়ালেন। প্রথমে কিছু ধরা না পড়লেও কিছুক্ষণ পর কায়েস চিৎকার করে ওঠেন, ‘পাগলি, কুমির!’ দুজনই ছুটে গেলেন সেই দিকে।
খাদিজার ভাষায়, জীবনে প্রথমবার প্রকৃতিতে কুমির দেখলাম! কায়েস ভিডিও করছিলেন, আমি ছবি তুলছিলাম। মুহূর্তটা ছিল অবিশ্বাস্য।
আইইউসিএন-এর মুখ্য গবেষক এবিএম সারোয়ার আলম (সীমান্ত দীপু) বলেন, ২০১৫ সালে মিঠাপানির কুমিরকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর পাবনায় ও অন্য কয়েক জায়গায় দেখা গেছে। তবে সম্ভবত এরা ভারতের চাম্বুল নদী থেকে এসেছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে তিন প্রজাতির কুমির রয়েছে— লোনাপানির কুমির, মিঠাপানির কুমির ও ঘড়িয়াল।
রাজশাহীর পদ্মার চরে বিলুপ্তপ্রায় মিঠাপানির কুমিরের এমন উপস্থিতি তাই এক রোমাঞ্চকর বিস্ময়। যেন প্রকৃতি নিজেই জানিয়ে দিল— সে এখনো বেঁচে আছে।