খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ‘পোষ্য কোটা’ পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত ঘিরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকালে প্রশাসনিক ভবন এলাকায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন।
শুক্রবার থেকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনশনে বসে ‘পোষ্য কোটা’ বাতিলের দাবি জানাচ্ছিলেন। শনিবার বিকালে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দিন প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা তাঁর গাড়ি আটকে স্লোগান দেন এবং প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে গাড়ির উপর টাকা ছুড়ে দেন। পরে তিনি ও প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বাসভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা বাসায় তালা ঝুলিয়ে দেন।
পরে বিকালে উপ-উপাচার্য ও একদল শিক্ষক জুবেরী ভবনে প্রবেশ করতে চাইলে উত্তেজনা আরও বাড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীরা ভবনের সামনে স্লোগান দিয়ে অবরোধ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী মাটিতে পড়ে যান। এই অবস্থায় শিক্ষকেরা ভেতরে প্রবেশ করেন। সংঘর্ষে অন্তত কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা উপ-উপাচার্য স্যারকে অবরুদ্ধ করে বাসায় তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে আমরা জুবেরী ভবনে গেলে তারা আবারও বাধা দেয়। এ সময় ধাক্কাধাক্কির মধ্যে আমার হাতের ঘড়ি ও সঙ্গে থাকা ১০ হাজার টাকা হারিয়ে যায়। এটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা নয়।’
শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা উপ-উপাচার্য ও শিক্ষকদের জুবেরী ভবনের ভেতরে আটকে রেখে বিক্ষোভ করছিলেন। এ সময় তারা ‘পোষ্য কোটার বিরুদ্ধে আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘পোষ্য কোটা নো মোর’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। অন্যদিকে, জুবেরী ভবনের বাইরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও একত্রিত হয়ে পাল্টা অবস্থান নেন।
উল্লেখ্য, গত ২ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্থায়ীভাবে ‘পোষ্য কোটা’ বাতিল করে। তবে ১৩ আগস্ট থেকে কোটা পুনর্বহালসহ আট দফা দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর তারা হুঁশিয়ারি দেন, ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবি না মানলে পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে যাবেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ভর্তি কমিটির সভায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য শর্তসাপেক্ষে ‘পোষ্য কোটা’ পুনর্বহাল করা হয়। এর পরপরই শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে নামেন। পরদিন থেকে শুরু হয় আমরণ অনশন।
এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
খবরওয়ালা/এন