খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে আটকের পর সৃষ্ট উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এক নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার প্রধান ফটকে সমবেত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সময় সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক আরিফ তালুকদার ঘোষণা করেছেন যে, রাতের মধ্যেই মাহদী হাসানকে জামিনে মুক্ত করে আনা হবে। তিনি উপস্থিত বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আমি নিজেই পুলিশের সাথে মাহদীকে আদালতে নিয়ে যাচ্ছি এবং আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে আপনাদের মাঝে ফিরিয়ে আনতে পারব।”
আরিফ তালুকদারের এই বক্তব্যের পর থানার সামনে অবস্থানরত নেতা-কর্মীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে কর্মীদের প্রস্তুতি নিতে বলে বলেন, “আপনারা ফুলের মালা নিয়ে প্রস্তুত থাকুন, আমরা মাহদীকে সাথে নিয়েই ফিরব।” তবে আহ্বায়কের এই বক্তব্যের বিপরীতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সাধারণত রাতের বেলা আদালত বন্ধ থাকে, তাই কোন বিশেষ প্রক্রিয়ায় বা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে জামিনের চেষ্টা করা হচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে, যখন শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ওসির কক্ষে বসে মাহদী হাসান বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বানিয়াচং থানা আমরাই পুড়িয়েছি এবং এসআই সন্তোষকে আমরাই জ্বালিয়েছি’। এই উসকানিমূলক বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মাহদী হাসানকে শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।
ঘটনাপ্রবাহ ও মাহদী হাসানের আটকের প্রেক্ষাপট
| সময় ও তারিখ | ঘটনার বিবরণ | বর্তমান অবস্থা ও মন্তব্য |
|---|---|---|
| ২ জানুয়ারি (শুক্রবার) | শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ওসির সাথে বিবাদ ও বিতর্কিত মন্তব্য। | ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। |
| ৩ জানুয়ারি (শনিবার দুপুর) | কেন্দ্রীয় সংগঠন কর্তৃক মাহদী হাসানকে শোকজ। | সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ। |
| ৩ জানুয়ারি (শনিবার সন্ধ্যা) | ডিবি পুলিশ কর্তৃক নিজ বাসা থেকে মাহদী আটক। | পরবর্তীতে সদর থানায় হস্তান্তর। |
| ৩ জানুয়ারি (শনিবার রাত) | নেতা-কর্মীদের থানা ঘেরাও ও বিক্ষোভ। | মুক্তির দাবিতে শাহবাগেও অবরোধ। |
| ৩ জানুয়ারি (গভীর রাত) | আহ্বায়ক আরিফ তালুকদারের জামিনের ঘোষণা। | আদালত ও আইনি প্রক্রিয়ার অপেক্ষায়। |
শনিবার সন্ধ্যার পর হবিগঞ্জের ভাদৈ এলাকায় মাহদীর নিজ বাসভবন থেকে তাকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটকের পর তাকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়ে আসা হলে কয়েকশ শিক্ষার্থী থানা ফটকে অবস্থান নেয়। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন মাহদীকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ঠিক কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, মাহদী হাসান জুলাই বিপ্লবের একজন সম্মুখসারির যোদ্ধা। তার মুখ ফসকে বের হওয়া কোনো আবেগী কথাকে পুঁজি করে বিগত সরকারের সুবিধাভোগী কিছু পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। তবে সচেতন মহলের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা ও পুলিশ হত্যার দায় স্বীকার করা একটি গুরুতর আইনি বিষয়। মাহদীকে রাতের মধ্যে জামিন করানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে আইনি মহলে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। বর্তমানে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।