খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে বৈশাখ ১৪৩২ | ৩০ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
ফ্রান্সের কাছ থেকে ২৬টা রাফাল-মেরিন যুদ্ধবিমান কিনছে ভারত। এই চুক্তির বিষয়ে সে দেশের সঙ্গে কথা বার্তা আগেই চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে এমন একটা সময়ে যখন পহেলগামে পর্যটকদের উপর হামলাকে কেন্দ্র পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের উত্তেজনা তুঙ্গে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ৭৪০কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করে ফ্রান্স থেকে যুদ্ধবিমান কিনছে ভারত। এই যুদ্ধবিমান আইএনএস বিক্রান্ত থেকে পরিচালিত হবে। পুরানো যুদ্ধবিমানগুলোকে ধীরে ধীরে সরিয়ে দিয়ে এই আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করার কথা ভাবা হয়েছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “এই বিমানগুলো সরবরাহের কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে। ক্রুদের ফ্রান্স এবং ভারতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।” ফরাসি প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘ডাসোঁ এভিয়েশন’-এর কাছ থেকে এই বিমান কিনছে ভারত। এখন প্রশ্ন হলো ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও ‘আঁটসাঁটো’ করার নেপথ্যে কারণ কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক রাফাল চুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তোলার দিকে একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং সিনিয়র সাংবাদিক কমার আঘা বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এই চুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিকতম প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও মজবুত করে তুলবে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে ইতিমধ্যে রাফাল যুদ্ধবিমান রয়েছে। এখন নৌবাহিনীর কাছেও তা থাকবে।” যুদ্ধবিমান ভারতে আসতে এবং ব্যবহার শুরু হতে আরো কয়েক বছর লাগলেও, এই চুক্তি স্বাক্ষর করা একাধিক কারণে বিশেষ ইঙ্গিতবহ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে রাফাল চুক্তির পিছনে ভারতের দীর্ঘমেয়াদী ভাবনা রয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত ফাইটার এয়ারক্র্যাফ্ট পাইলট এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ প্রফুল্ল বক্সী বলেছেন, “এই চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তানের কাছে একটা বার্তা তো যাবেই পাশাপাশি, চীনের কাছেও একটা বার্তা পৌঁছাবে।” “চীনের তরফে ভারতের জন্য তৈরি হওয়া ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কথা মাথায় রেখেও এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
রাফাল-এম চুক্তি স্বাক্ষর
ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত থিয়েরি ম্যাথোয়ের সভাপতিত্বে সোমবার দিল্লিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রসঙ্গত, এই চুক্তির আওতায় থাকা ২৬টা যুদ্ধবিমানের মধ্যে ২২টা সিঙ্গেল সিটার এবং চারটে ডবল সিটার হবে বলে জানা গিয়েছে। ভারতে রাফাল বিমানের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ও এই চুক্তির অন্তর্গত। এর ফলে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে ইতিমধ্যেই ৩৬টা রাফাল যুদ্ধবিমান রয়েছে। সাম্প্রতিক চুক্তি হয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনীর কথা মাথায় রেখে রাফাল-এম বা রাফাল মেরিনের জন্য। এই যুদ্ধবিমান সমুদ্রে এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ারের সাহায্যে অপারেট করা হয়।
রাফাল যুদ্ধবিমান সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক
রাফাল যুদ্ধবিমান (Rafale) হলো ফ্রান্সের বিখ্যাত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ড্যাজল্ট অ্যাভিয়েশনের তৈরি একটি চতুর্থ প্রজন্মের উন্নত বহুমুখী যুদ্ধবিমান। এটি একসঙ্গে আকাশে যুদ্ধ, মাটিতে আঘাত হানা, গোয়েন্দাগিরি এবং পরমাণু অস্ত্র বহনের সক্ষমতা রাখে। এর গতি শব্দের চেয়েও প্রায় ১.৮ গুণ দ্রুত। এটি প্রায় ৩,৭০০ কিমি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে সহজেই আঘাত হানতে পারে। এই যুদ্ধ বিমানে ব্যবহ্রত কামানের পরিধি ৩০মিমি।
রাফালকে আধুনিক যুদ্ধবিমানের দুনিয়ায় একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শত্রুপক্ষের গতিবিধি ও অবস্থান শনাক্ত করে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। রাফালের একটি সংস্করণ নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে উড্ডয়ন করতে পারে।
খবরওয়ালা/এমএজেড