রাশিয়ার হুমকির জবাবে পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প

রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের উসকানিমূলক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার (১ জুলাই) নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ‘আমি দুটি পারমাণবিক সাবমেরিনকে যথাযথ কৌশলগত অঞ্চলে অবস্থান নিতে বলেছি, যেন এই মূর্খতা শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে।’

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কথার গুরুত্ব অনেক। এগুলো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। আমি আশা করি, এটাই তার একটি উদাহরণ হবে না।’

এই উত্তেজনার সূচনা হয় মেদভেদেভের এক বক্তব্য থেকে। ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির আহ্বানে ট্রাম্প রাশিয়াকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় মেদভেদেভ ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, ‘প্রতিটি নতুন আল্টিমেটাম যুদ্ধের দিকে একধাপ অগ্রসর হওয়া।’ তিনি আরও দাবি করেন, রাশিয়ার হাতে এখনো রয়েছে ‘ডেড হ্যান্ড’ সিস্টেম, অর্থাৎ রাশিয়া আক্রান্ত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পারমাণবিক হামলা চালানোর প্রযুক্তি।

ট্রাম্প এই হুমকির জবাবে সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট হুমকি দিয়েছেন এবং আমরা এটাকে হালকাভাবে নেইনি। আমি আমাদের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ট্রাম্প ও মেদভেদেভ সাম্প্রতিক সময় জুড়ে সামাজিক মাধ্যমে একে অপরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে যাচ্ছেন। মেদভেদেভ ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে ‘নাটকীয়’ ও ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বললেও ট্রাম্প তাঁকে ‘রাশিয়ার ব্যর্থ সাবেক প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

মেদভেদেভ ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের অন্যতম প্রবল সমর্থক এবং পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র সমালোচক।

ট্রাম্প ঠিক কোন ধরনের সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি। তিনি উল্লেখ করেননি সাবমেরিন দুটি পরমাণু অস্ত্রধারী কি না, কিংবা কোন অঞ্চলে এগুলো মোতায়েন করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে বিভিন্ন শ্রেণির পারমাণবিক সাবমেরিন, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে: ভার্জিনিয়া-ক্লাস, সিওউল্ফ-ক্লাস, লস অ্যাঞ্জেলেস-ক্লাস

এসব সাবমেরিন টমাহক ও হারপুন ক্ষেপণাস্ত্র এবং এমকে-৪৮ টর্পেডো বহনে সক্ষম। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাবমেরিনের মোতায়েন নতুন কিছু নয়, তবে ট্রাম্পের বক্তব্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

ক্রেমলিন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পের বক্তব্যের কোনো জবাব দেয়নি, তবে তাঁর ঘোষণার পর মস্কোর শেয়ার বাজারে মূল্যপতন ঘটেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি মূলত এক প্রকার শক্তির প্রদর্শন ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল, যার উদ্দেশ্য রাশিয়াকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনা।

এই ঘটনাপ্রবাহ এমন এক সময় সামনে এসেছে, যখন ইউক্রেনে যুদ্ধ অব্যাহত এবং পশ্চিমা বিশ্ব মস্কোর ওপর চাপ বজায় রাখছে। ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে পুতিনের সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে হলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যেই রাশিয়ার নেতৃত্বের ওপর অসন্তোষ জানিয়ে আসছেন।

 

খবরওয়ালা/এন

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।