খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে তার গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) হোয়াইট হাউসে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি জানান তিনি।
ট্রাম্পের অভিযোগ, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্তের বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করে ওবামা প্রশাসন জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে। তিনি বলেন, “এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা ছিলেন বারাক হুসেইন ওবামা। এটি ছিল রাষ্ট্রদ্রোহিতা, তারা নির্বাচন চুরি ও সত্য ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল।”
ওবামার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এসব অভিযোগকে “ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং দৃষ্টি সরানোর ব্যর্থ চেষ্টা” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা বলেন, প্রেসিডেন্টের মর্যাদা বিবেচনায় সাধারণত এমন অভিযোগের জবাব দেওয়া হয় না, তবে এবার বিষয়টি এতটাই অযৌক্তিক যে প্রতিক্রিয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্প তার অভিযোগের পেছনে সাবেক ডেমোক্র্যাট নেত্রী এবং বর্তমান জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ডের দাবি তুলে ধরেন। গ্যাবার্ডের দপ্তর থেকে ১৮ জুলাই এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওবামা প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহমূলক ষড়যন্ত্রে’ লিপ্ত ছিলেন এবং বছরের পর বছর ধরে ‘একটি অভ্যুত্থান’ পরিকল্পনা করেন।
গ্যাবার্ড পরবর্তীতে একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ওবামা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে বিচার বিভাগের কাছে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন।
তবে ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্প ও গ্যাবার্ডের এসব বক্তব্যকে “রাজনৈতিক নাটক” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা বলছেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা—যার মাধ্যমে জনসাধারণের দৃষ্টি বর্তমান রাজনৈতিক সমস্যাগুলো থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে ট্রাম্পের শেয়ার করা একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভিডিও ঘিরে, যেখানে ওবামাকে গ্রেপ্তারের চিত্র তুলে ধরা হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
সূত্র: রয়টার্স ও বিবিসি
খবরওয়ালা/টিএসএন