খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে পৌষ ১৪৩২ | ৭ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জাতীয় রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে বড় অঙ্কের মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক ১৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ২২৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন বা ২২ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে। ডলারের এই সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিনিময় হার ও ক্রয়ের তথ্য
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই ডলার ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ‘কাট-অফ’ রেট হিসেবে গণ্য হয়েছে। বছরের শুরুতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ডলারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় এবং বাজারে চাহিদার তুলনায় জোগান সন্তোষজনক হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বাজারের তারল্য পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয়ের একটি পরিসংখ্যানগত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
| সময়কাল | ক্রয়ের পরিমাণ (মার্কিন ডলারে) | টাকার অংকে রূপান্তর (প্রায়) |
|---|---|---|
| ৬ জানুয়ারি ২০২৬ (একদিনে) | ২২৩.৫০ মিলিয়ন ডলার | ২,৭৩৩ কোটি টাকা |
| জানুয়ারি ২০২৬ (এ পর্যন্ত) | ৪১১ মিলিয়ন ডলার | ৫,০২৬ কোটি টাকা |
| চলতি অর্থবছর (জুলাই – ৬ জানু) | ৩,৫৪৬.৫০ মিলিয়ন ডলার | ৪৩,৩৭৩ কোটি টাকা |
| মোট ডলার ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা | রিজার্ভের স্থিতিশীলতা অনুযায়ী পরিবর্তনশীল | প্রযোজ্য নয় |
দ্রষ্টব্য: টাকার অংক ১২২.৩০ বিনিময় হার অনুযায়ী আনুমানিক হিসাব করা হয়েছে।
রিজার্ভে প্রভাব ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব
বর্তমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে মোট ৩৫৪ কোটি ৬৫ লাখ মার্কিন ডলার (৩.৫৫ বিলিয়ন ডলার) সংগ্রহ করেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ডলার ক্রয়ের ফলে দুটি সুবিধা অর্জিত হবে। প্রথমত, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে থাকা অলস ডলার বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ায় ডলারের দামে বড় ধরণের ধস নামবে না, যা রফতানিকারক ও প্রবাসীদের জন্য ইতিবাচক। দ্বিতীয়ত, সংগৃহীত এই ডলার সরাসরি গ্রস বা মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যুক্ত হয়ে দেশের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াবে।
উল্লেখ্য যে, গত কয়েক বছরে ডলার সংকটের কারণে আমদানি ঋণপত্র (LC) খুলতে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছিল। তবে চলতি অর্থবছরে ধারাবাহিকভাবে ডলার ক্রয়ের এই প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের উচ্চ প্রবাহ এবং রফতানি আয় স্থিতিশীল থাকায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে বর্তমানে ডলারের উদ্বৃত্ত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই সুযোগ ব্যবহার করে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় রিজার্ভের ঝুলি সমৃদ্ধ করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাজারের চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য রক্ষা করতে তারা নিয়মিতভাবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সাথে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডলার ক্রয় বা বিক্রয়ের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ চালিয়ে যাবে।