খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় ছয়দিনের রিমান্ড শেষে সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোল্লা মাসুদসহ তিন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩ জুন) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান এই আদেশ দেন। কারাগারে যাওয়া অন্য দুই আসামি হলেন—এম এ এস শরিফ (২৫) ও মো. আরাফাত ইবনে মাসুদ (৪৩)।
এর আগে, গত ২৮ মে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন প্রত্যেক আসামির ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই মামলায় সুব্রত বাইনের জন্য আটদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
হাতিরঝিল থানা পুলিশ মামলার রিমান্ড আবেদনে জানায়, ২০০১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষিত ২৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদের নাম ছিল। তারা কুখ্যাত সেভেন স্টার গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন এবং খুন, চাঁদাবাজি ও ডাকাতির মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর এরা কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে দাবি করে পুলিশ।
গত ২৭ মে সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাতিরঝিল থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুই সহযোগী—এম এ এস শরিফ ও মো. আরাফাত ইবনে নাসিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এস এম শরিফের বাসা থেকে অস্ত্র, গুলি এবং অপরাধে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আসামিদের জামিন বাতিল করে রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদনে বলা হয়, তারা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও অস্ত্র ও সহযোগীর খোঁজ পাওয়া যেতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষিত তালিকায় সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদসহ ২৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ছিল। সরকার তাঁদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করে। তাঁরা সেভেন স্টার গ্রুপ নামের সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনার মাধ্যমে দেশে খুন, ডাকাতি ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছিলেন। আসামিরা এর আগেও বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে পলাতক ছিলেন।
খবরওয়ালা/আরডি