খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর চেনা আঙিনায় ইতিহাস এবং পরিসংখ্যানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। টানা নয় ম্যাচ অপরাজিত থাকার গৌরব নিয়ে মাঠে নামা রিয়ালকে তাদের ঘরের মাঠেই স্তব্ধ করে দিয়েছে ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বায়ার্ন মিউনিখ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার মানসিকতা প্রদর্শন করে। বিশেষ করে মাঝমাঠের দখল নিয়ে তারা রিয়ালের ডিফেন্সকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। ৫ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া ফ্রি-কিক কাজে লাগাতে না পারলেও, ৯ মিনিটে দাউত উপমেকানো গোলরক্ষককে একা পেয়ে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ায় রিয়াল শিবিরে প্রাথমিক সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়।
শুরুর এই বিধ্বংসী চাপ কাটিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করে। ১৬ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের একটি নিশ্চিত গোল প্রচেষ্টা ম্যানুয়াল নয়্যারের অতিমানবীয় দক্ষতায় নসাৎ হয়ে যায়। ২৮ মিনিটে সার্জ নাবরি লুনিনকে একা পেয়েও সুযোগ নষ্ট করলে ম্যাচে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়ে। তবে ৪১ মিনিটে কলম্বিয়ান উইঙ্গার লুইস দিয়াজ আর কোনো ভুল করেননি। সার্জ নাবরির নিখুঁত পাস থেকে অসাধারণ এক ফিনিশিংয়ে বায়ার্নকে ১-০ ব্যবধানে লিড এনে দেন তিনি।
বিরতির ঠিক পরেই রিয়াল মাদ্রিদ যখন ম্যাচে ফেরার পরিকল্পনা করছিল, তখনই তাদের রক্ষণভাগের অসতর্কতার সুযোগ নেন হ্যারি কেইন। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ২০ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে বায়ার্নের লিড দ্বিগুণ করেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া রিয়াল তখন মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙে পড়ে। ৬১ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করলে স্বাগতিকদের হতাশা আরও বাড়ে।
তবে চ্যাম্পিয়নস লিগের সফলতম দল রিয়াল মাদ্রিদ হাল ছাড়েনি। ৭৫ মিনিটে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের নিখুঁত পাস থেকে গোল করে ব্যবধান কমান ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২-১ ব্যবধানে পৌঁছে যাওয়ার পর রিয়াল সমতায় ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও বায়ার্নের শক্ত ডিফেন্স তা সফলভাবে রুখে দেয়।
নিচে প্রথম লেগের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের কিছু মূল পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | রিয়াল মাদ্রিদ | বায়ার্ন মিউনিখ |
| গোল সংখ্যা | ১ | ২ |
| বল দখল (%) | ৫২% | ৪৮% |
| মোট শট | ১৩ | ১২ |
| লক্ষ্যে শট | ৪ | ৫ |
| কর্নার | ৬ | ৩ |
| ফাউল | ৯ | ১১ |
| সেভ (গোলরক্ষক) | ৩ | ৩ |
এই পরাজয়ের ফলে রিয়াল মাদ্রিদের জন্য সেমিফাইনালের পথটা বেশ পিচ্ছিল হয়ে গেল। আগামী ১৫ এপ্রিল আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হবে তারা। সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে রিয়ালকে অবশ্যই বায়ার্নের দুর্ভেদ্য মাঠে অন্তত দুই গোলের ব্যবধানে জয়ী হতে হবে। অন্যদিকে, নিজেদের মাঠে ড্র করতে পারলেই শেষ চারের পথ সুগম হবে বায়ার্নের জন্য।
লুইস দিয়াজ এবং হ্যারি কেইনের গোল বায়ার্নকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখলেও, এমবাপ্পের গোলটি রিয়ালকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রেখেছে। বার্নাব্যুর এই পরাজয় কাটিয়ে আনচেলত্তির দল কি বাভারিয়ায় নতুন কোনো রূপকথা লিখতে পারবে, নাকি বায়ার্ন মিউনিখ তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখবে—তা দেখার জন্য ফুটবল ভক্তদের চোখ এখন ১৫ এপ্রিলের সেই মহা-লড়াইয়ের দিকে।