খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাম্প্রতিক সময়ে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। শুধু ময়মনসিংহ নয়, আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও আক্রান্ত শিশুদের এখানে ভর্তি করা হচ্ছে। গত ১১ দিনে মোট ১০৫ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে—যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে হামের প্রকোপ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২৪ মার্চ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিনটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করে এবং শিশু ওয়ার্ডে ‘হাম/মিসেলস কর্নার’ নামে ১০ শয্যার বিশেষ কক্ষ চালু করা হয়। তবে রোগীর চাপ এত বেশি যে নির্ধারিত শয্যায় স্থান সংকুলান হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে এক বিছানায় দুই শিশুকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, আবার অনেককে মেঝে কিংবা বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার বিকেল পর্যন্ত হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে মোট ৬৯ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিল। এর মধ্যে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ৪৬ জন এবং ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দুটি ইউনিটে ২৩ জন ভর্তি ছিল। অথচ এই দুটি ওয়ার্ডের মোট শয্যা সংখ্যা মাত্র ৬০, যেখানে নিয়মিত তিন থেকে চার শতাধিক রোগী ভর্তি থাকে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
| সূচক | সংখ্যা |
|---|---|
| গত ১১ দিনে ভর্তি | ১০৫ জন |
| বর্তমানে চিকিৎসাধীন | ৬৯ জন |
| মোট মৃত্যু | ৩ জন |
| নির্ধারিত শয্যা সংখ্যা | ৬০ |
| বাস্তবে রোগীর সংখ্যা | ৩০০-৪০০+ |
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশি, কথা বলা বা সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা যাচ্ছে, যা মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার জানান, টিকা নেওয়া ও না নেওয়া—দুই ধরনের শিশুই আক্রান্ত হচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো টিকা না নেওয়া বড় কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। অভিভাবকদের অসচেতনতা, করোনাকালীন টিকাদান ব্যাহত হওয়া এবং সাম্প্রতিক সামাজিক অস্থিরতার কারণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান বলেন, আক্রান্ত রোগীদের সাধারণ রোগীদের থেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করা হলেও অতিরিক্ত রোগীর চাপে তা পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করছেন, তবে হঠাৎ সংক্রমণ বৃদ্ধির নির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিশেষ শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বহির্বিভাগে শিশুদের জন্য ‘ডেডিকেটেড ফিবার ক্লিনিক’ চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের প্রকোপ ঠেকাতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত আইসোলেশনে রাখা। সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।