খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে মাঘ ১৪৩২ | ২০ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
২০২৬ সাল হতে যাচ্ছে বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ বছরের মধ্যে একটি বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে কানাডার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ (Environment and Climate Change Canada)। দেশটির জলবায়ু বিষয়ক ওয়েবসাইট ClimateData.ca-তে প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলতি বছর বৈশ্বিক তাপমাত্রা রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের (১৮৫০-১৯০০) তুলনায় ২০২৬ সালের গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৩৫–১.৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ১২ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে তাপমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ সীমা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করবে।
এ বিষয়ের মূল কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানো থেকে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণকে উল্লেখ করেছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অতিরিক্ত গরমে ২০২৩–২৪ সালের শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা এবং সম্ভব হলে ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখাই লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, একক বছরের জন্য সীমা অতিক্রম হলেও তা চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয় না; তবে এটি বৈশ্বিক তাপমাত্রার উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
| সূচক | পূর্বাভাসিত মান | মন্তব্য |
|---|---|---|
| গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি | ১.৩৫–১.৫৩°C | শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় |
| সীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা | ১২% | ১.৫°C সীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা |
| টানা বছর ১°C বা বেশি বৃদ্ধি | ১৩ বছর | ২০২৬ হবে ১৩তম বছর |
| অতিরিক্ত প্রাকৃতিক ঘটনার প্রভাব | উচ্চ | এল নিনো ২০২৩–২৪ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা |
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে তাপপ্রবাহ, খরা, দাবানল, অতিবৃষ্টি ও বন্যা ঘটার ঝুঁকি বাড়বে। এর প্রভাবে কৃষি উৎপাদন, খাদ্য সরবরাহ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এনভায়রনমেন্ট কানাডার পূর্বাভাসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা Barclay Earth-এর ফলাফলের মিল পাওয়া গেছে। উভয় সংস্থা উল্লেখ করেছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকবে, যা গত ১৩ বছর ধরে ধারাবাহিক বৃদ্ধি প্রদর্শন করছে।
বিশেষজ্ঞরা জনগণ ও নীতি নির্ধারকদের জন্য আরও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব সীমিত রাখা যায় এবং পরিবেশগত সংকট মোকাবিলা করা যায়।