খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
২০২৬ সাল হতে যাচ্ছে বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ বছরের মধ্যে একটি বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে কানাডার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ (Environment and Climate Change Canada)। দেশটির জলবায়ু বিষয়ক ওয়েবসাইট ClimateData.ca-তে প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলতি বছর বৈশ্বিক তাপমাত্রা রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের (১৮৫০-১৯০০) তুলনায় ২০২৬ সালের গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৩৫–১.৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ১২ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে তাপমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ সীমা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করবে।
এ বিষয়ের মূল কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানো থেকে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণকে উল্লেখ করেছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অতিরিক্ত গরমে ২০২৩–২৪ সালের শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা এবং সম্ভব হলে ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখাই লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, একক বছরের জন্য সীমা অতিক্রম হলেও তা চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয় না; তবে এটি বৈশ্বিক তাপমাত্রার উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
| সূচক | পূর্বাভাসিত মান | মন্তব্য |
|---|---|---|
| গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি | ১.৩৫–১.৫৩°C | শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় |
| সীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা | ১২% | ১.৫°C সীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা |
| টানা বছর ১°C বা বেশি বৃদ্ধি | ১৩ বছর | ২০২৬ হবে ১৩তম বছর |
| অতিরিক্ত প্রাকৃতিক ঘটনার প্রভাব | উচ্চ | এল নিনো ২০২৩–২৪ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা |
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে তাপপ্রবাহ, খরা, দাবানল, অতিবৃষ্টি ও বন্যা ঘটার ঝুঁকি বাড়বে। এর প্রভাবে কৃষি উৎপাদন, খাদ্য সরবরাহ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এনভায়রনমেন্ট কানাডার পূর্বাভাসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা Barclay Earth-এর ফলাফলের মিল পাওয়া গেছে। উভয় সংস্থা উল্লেখ করেছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকবে, যা গত ১৩ বছর ধরে ধারাবাহিক বৃদ্ধি প্রদর্শন করছে।
বিশেষজ্ঞরা জনগণ ও নীতি নির্ধারকদের জন্য আরও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব সীমিত রাখা যায় এবং পরিবেশগত সংকট মোকাবিলা করা যায়।