খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট ২০২৫
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্থিরতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসা, চোরাচালান, মানবপাচার, অপহরণ ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধে একাধিক রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ জড়িত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত আট বছরে এসব অপরাধে অন্তত ৩০০ রোহিঙ্গা খুন হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কমিউনিটি নেতা, স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ বাসিন্দারাও রয়েছেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ক্যাম্পগুলোতে প্রায় ২৫০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি হত্যা মামলা, ১৫০টি মাদক সংক্রান্ত, ৫০টি অপহরণ এবং ১২টি ধর্ষণের মামলা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট ২৮৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের তথ্যমতে, উখিয়া ও টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে অন্তত ১০টি সক্রিয় সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে। এসব গ্রুপ দোকানপাটের আড়ালে মাদকের আখড়া পরিচালনা করছে এবং অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও মানবপাচারের মতো অপরাধে জড়িত। টেকনাফের ‘আবদুল হাকিম বাহিনী’ এর মধ্যে অন্যতম, যাদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও ইয়াবা পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো এখন ‘মাদকের হটস্পটে’ পরিণত হয়েছে, যেখানে চার শতাধিক মাদক বিক্রির আখড়া সক্রিয়। আরাকান আর্মির অর্থায়নে ১৯টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে প্রতিনিয়ত ইয়াবা ও আইসসহ বিভিন্ন মাদক পাচার হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এখন একটি সাধারণ ঘটনা। অপহৃত কালা মিয়া ও সাবের আলম জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদের অপহরণ করে মুক্তিপণের জন্য নির্যাতন করেছে।
জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে বর্তমানে রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৪ লাখের বেশি। এর মধ্যে ৮ লাখ এসেছে ২০১৭ সালের আগস্টে এবং জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৪ পর্যন্ত আরও দেড় লাখ রোহিঙ্গা এসেছে, যার মধ্যে ১ লাখ ২১ হাজার নিবন্ধিত। প্রতি বছর ক্যাম্পগুলোতে ৩০ হাজারের বেশি শিশু জন্ম নেওয়ায় জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। আট বছরেও একজন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি, যা বাংলাদেশের ওপর আর্থসামাজিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক পুলিশ সুপার রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সদস্য সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন। গত এক বছরে অর্ধলাখ ইয়াবাসহ ১১৬ জন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৬৫টি মাদক মামলা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, ক্যাম্পের অপরাধ দমনে বিভিন্ন সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন